
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো এবং সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। আজ মঙ্গলবার ৫ মে ২০২৬ সচিবালয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেজেনের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই আহ্বান জানান। বৈঠকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের অর্থ বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ায় ত্রাণ কার্যক্রমে বড় ধরণের সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে বাংলাদেশ অত্যন্ত জনবহুল দেশ হওয়া সত্ত্বেও মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এই বিশাল জনসংখ্যার ভার বহন করা দেশের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ছে।
ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেজেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উচ্চ জনঘনত্ব এবং সীমিত স্থানের কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাদের মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্য আন্তর্জাতিক অনুদান বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কেও প্রতিনিধিদলকে অবহিত করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে জাতিসংঘসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে মিয়ানমার সরকারের ওপর কার্যকর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করবে। ২০২৬ সালের এই মূহূর্তে দাঁড়িয়ে রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধানই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য বলে তিনি পুনব্যক্ত করেন।