
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন ২০২৬ এর ষষ্ঠ অধিবেশনে জেলা প্রশাসকদের প্রতি জনমুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জেলা প্রশাসকদের তৃণমূলের নেতা হিসেবে অভিহিত করেন এবং সাধারণ মানুষের সাথে মিশে গিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার নির্দেশ দেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বক্তব্যে বলেন যে একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের লক্ষ্য ও উন্নয়ন কর্মসূচি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসকদের প্রকৃত জনকল্যাণমূলক কাজে মনোনিবেশ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে জেলা প্রশাসকরা যখন জনগণের পাশে থাকবেন এবং তাদের সাথে নিয়ে নেতৃত্ব দেবেন তখনই সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সহজ হবে।
অধিবেশনে মন্ত্রী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান যে সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে। তার মতে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকেন্দ্রীকরণ যত বাড়বে গণতন্ত্র তত বেশি শক্তিশালী হবে। দেশ পরিচালনায় নতুনত্ব নিয়ে আসা এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচিগুলো সময়মতো বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। তিনি নারী ক্ষমতায়নের চিত্র তুলে ধরে জানান যে বর্তমানে ৬৪ জন জেলা প্রশাসকের মধ্যে ১৮ জনই নারী যা সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। এছাড়া আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ১২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে আটটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকরা অংশ নেন। অধিবেশনের শুরুতেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ উপস্থাপনা প্রদান করা হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বে জেলা প্রশাসকরা নিজ নিজ জেলার বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন এবং মন্ত্রী সেগুলোর সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরিশেষে প্রশাসনের এই শীর্ষ সম্মেলনে উঠে আসা দিকনির্দেশনাগুলো মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জনগণের সেবক হিসেবে জেলা প্রশাসকদের এই নতুন ভূমিকা ২০২৬ সালের প্রশাসনিক কাঠামোতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের বিশেষজ্ঞরা।