
ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ৫ মে। ঠিক ১৩ বছর আগে এই রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে নেমে এসেছিল এক ভয়াবহ বিভীষিকা। সেই রাতের অভিযানে কেউ হারিয়েছেন পা, কেউ চোখ, আবার কেউবা শরীরের ভেতরে এক যুগ ধরে বয়ে বেড়াচ্ছেন বুলেটের স্প্লিন্টার। আজও সেই ক্ষত আর ঋণের পাহাড় নিয়ে ডানাভাঙা পাখির মতো বেঁচে আছেন তারা।
সাভারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মুফতী রাশেদুল ইসলাম সিরাজী। ২০১৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে শাপলা চত্বরের অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে ডান পা হারান তিনি। পা হারানোর আক্ষেপ না থাকলেও, চিকিৎসার জন্য নেওয়া সাড়ে চার লাখ টাকার ঋণের বোঝা আজও তাকে তাড়া করে ফিরছে। তার প্রশ্ন, "এই দুর্বিষহ জীবনযুদ্ধের শেষ কোথায়? আমরা কি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বা পুনর্বাসন পাব না?"
একইভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন পটুয়াখালীর নূরে আলম। শাপলা চত্বরে গুলি লেগে তার বাম চোখটি চিরতরে হারিয়ে গেছে। গুলির তীব্রতায় ব্রেন স্ট্রোক করায় শরীরের এক পাশ আজও অবশ। মাদরাসায় সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করে সংসার চালানো নূরে আলম বলেন, "পরিবার নিয়ে সম্মানের সাথে বাঁচতে চাই, অন্তত আয়ের একটা ব্যবস্থা করে দিন যেন ভিক্ষা করতে না হয়।"
এদিকে নারায়ণগঞ্জের নাসির উদ্দিনের গল্পটি আরও করুণ। নিজের পায়ের ভেতরে ১৩ বছর ধরে একটি মেটালিক রড বয়ে বেড়িয়েছেন তিনি, যা বের করার সামর্থ্য ছিল না অর্থের অভাবে। ২০২৫ সালে এসে সেই রড খুলতে পারলেও দীর্ঘ চিকিৎসার ৯-১০ লাখ টাকার ঋণ শোধ করতে গিয়ে তার পড়াশোনা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।
আহতদের এই দীর্ঘশ্বাসের মাঝে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে অবহেলা আর অব্যবস্থাপনার অভিযোগ। নাসির উদ্দিনের আক্ষেপ, "শহীদদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলেও আমাদের মতো পঙ্গু হয়ে বেঁচে থাকা মানুষদের খোঁজ কেউ নেয়নি।" তাদের দাবি, অবিলম্বে শাপলা চত্বরে আহতদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে তাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।