
হাওর অঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি কৃষক পরিবারকে সরকার ন্যূনতম সাড়ে সাত হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করবে।
সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিসিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী জানান, মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে তালিকা তৈরির কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী এই সহায়তা মে মাস থেকে শুরু হয়ে জুলাই পর্যন্ত টানা তিন মাস চলবে। ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতা বিবেচনায় সহায়তার এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। মন্ত্রী আরও বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এই অর্থায়ন করা হবে। কৃষকদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা হয়তো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়, তবে এই সহায়তা তাদের মানসিক ও আর্থিক সংকটে কিছুটা স্বস্তি দেবে।"
আসন্ন কোরবানি ঈদ প্রসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, দেশে পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় ইতোমধ্যে বর্ডার হাটগুলো বন্ধ করা হয়েছে এবং বিদেশ থেকে গরু আমদানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া সম্মেলনে আলুর বাজারমূল্য নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানান, সরকার আলু রপ্তানির দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে। চলতি বছর থেকেই চিপস ও ফ্রেঞ্চফ্রাই তৈরির উপযোগী বিশেষ জাতের আলু চাষ শুরু হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বিদেশের বাজারে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে।