
ভোলার দৌলতখান উপজেলায় বিদ্যুতের লাগামহীন লোডশেডিং আর অঘোষিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন এখন বিপর্যস্ত। বিশেষ করে চলতি এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। সন্ধ্যার পর যখন পড়ার টেবিলে মনোযোগ দেওয়ার কথা, ঠিক তখনই বিদ্যুৎ হারিয়ে যাওয়া এখন এই উপজেলার নিত্যনৈমিত্তিক চিত্র। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা কেন্দ্রেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে পরীক্ষার্থীদের নাভিশ্বাস উঠছে। আকাশে মেঘের দেখা মিললেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়া যেন অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটার কথা জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। মহিবুর রহমান নামে এক অভিভাবক জানান, সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারছে না, এমনকি জরুরি প্রয়োজনে বাজারে মোমবাতিও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত টানা ১৭ ঘণ্টা এবং রোববার দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল পুরো এলাকা। এই দীর্ঘ অন্ধকার সময়টুকু শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতিতেও। কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট ব্যবসায়ী মোর্শেদ মিয়া জানান, বিদ্যুতের অপেক্ষায় বসে থাকতে থাকতে ব্যবসা বন্ধের উপক্রম হয়েছে, অথচ মাস শেষে বিল পরিশোধের চাপ ঠিকই থাকছে। একই চিত্র মাছের বাজারেও; বরফকলগুলো অচল হয়ে পড়ায় মৎস্য ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। এছাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়ায় পুরো উপজেলা যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে ক্ষোভ জানাতে এরিয়া অফিসে ফোন করেও কাউকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদর দপ্তরের জিএম রাজ্জাকুর রহমান জানিয়েছেন, ঝড়-বৃষ্টি এবং জাতীয় গ্রিডে সমস্যার কারণে এই লোডশেডিং হচ্ছে। সাধারণ মানুষের দাবি, অঘোষিত লোডশেডিং বন্ধ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে চলমান পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে শিক্ষার্থীদের ফলাফল বিপর্যয় ঘটতে পারে।