কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল কাইয়ুমকে আটকের প্রতিবাদে রোববার দুপুরে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা ঘেরাও করেছেন দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করে কোতোয়ালি মডেল থানা এবং জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা।
তাকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে শাসনগাছা বাস টার্মিনাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন পরিবহনের চালক ও শ্রমিকেরা টার্মিনাল অবরোধ করে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। এর ফলে দীর্ঘ চার ঘণ্টা কুমিল্লা থেকে বিভিন্ন রুটে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, যা সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলে। তবে প্রশাসনের সাথে আলোচনার পর বিকেল থেকে পুনরায় বাস চলাচল শুরু হলেও বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত থানার সামনে নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।
পুলিশের পক্ষ থেকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও নির্দিষ্ট কোনো কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে তাকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে শাসনগাছা বাস টার্মিনালের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাকে কোতোয়ালি মডেল থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানিয়েছেন, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় আনা হয়েছে এবং এখনো তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানার প্রধান ফটক আটকে রাখা হয়েছে এবং বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা বিএনপি নেতার নিঃশর্ত মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
