মাদ্রাসায় এক ভয়াবহ পাশবিকতার শিকার হয়েছে ১০ বছর বয়সী এক শিশু। প্রথম ঋতুস্রাব হওয়ার আগেই পাশবিক নির্যাতনের ফলে কনসিভ করতে হয়েছে তাকে। নিজের শরীরের ভেতরে কী ঘটছে তা বুঝে ওঠার ক্ষমতাও ছিল না শিশুটির; সে ভেবেছিল পেটের ভেতর ভারী কিছু একটা নাড়াচাড়া করছে। নির্যাতক মৌলভীর প্রাণনাশের হুমকির ভয়ে দীর্ঘ সাত মাস এই বীভৎস যাতনা মুখ বুজে সহ্য করেছে সে। যখন পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পারলেন, ততদিনে গর্ভস্থ শিশুটির বয়স সাত মাস পূর্ণ হয়েছে।
ভয়াবহ শারীরিক জটিলতা ও ঝুঁকি
ভুক্তভোগী শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকদের তথ্যমতে, মেয়েটির উচ্চতা চার ফিটেরও কম এবং ওজন মাত্র ২৯ কেজি। অন্যদিকে, গর্ভস্থ শিশুটির বাইপ্যারাইটাল ডায়ামিটার (মাথার ব্যাস) প্রায় ৭৪ মিলিমিটার, যা শিশুটির সংকীর্ণ পেলভিসের তুলনায় অনেক বড়। এছাড়া শিশুটির রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা মাত্র ৮.২ শতাংশ, যা মারাত্মক রক্তস্বল্পতা, অপুষ্টি এবং কৃমির সংক্রমণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের উদ্বেগ
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, এমন শারীরিক অবস্থায় সরু পেলভিসের ভেতর দিয়ে বড় মাথার শিশু প্রসব করা স্বাভাবিকভাবে একেবারেই অসম্ভব। অন্যদিকে, এত কম বয়সে এবং অপুষ্টিজনিত শরীরে সিজারিয়ান অপারেশন করাও অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এমতাবস্থায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই অমানবিক ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবার যে অবর্ণনীয় ট্রমায় দিন কাটাচ্ছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
বিচারহীনতা ও কাঠামোগত ব্যর্থতা
অভিযোগ উঠেছে, মাদ্রাসায় ধর্ষণ, বলাৎকার ও নিপীড়নের ঘটনা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়লেও রাষ্ট্র এসবের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। একটি ঘটনার পর অন্যটি ঘটে চললেও এই অপরাধের পেছনের কাঠামোগত কারণগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ধর্মীয় লেবাসধারী কিছু 'রাক্ষস' ও ধর্ষকদের হাত থেকে কোমলমতি শিশুদের রক্ষা করার জন্য কঠোর আইনি প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা এখন সময়ের দাবি।
