
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসে দুই শীর্ষ পরাশক্তি ‘প্রথম আলো’ এবং ‘কালের কণ্ঠ’-এর মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঠান্ডা লড়াই এবার প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মিডিয়া হাউজের মধ্যে শুরু হওয়া এই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংঘাত দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। পর্দার আড়ালের ব্যবসায়িক স্বার্থ, করপোরেট এজেন্ডা এবং একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণের সুপ্ত বাসনা থেকেই এই চলমান করপোরেট যুদ্ধের সূত্রপাত বলে মনে করছেন মিডিয়া সংশ্লিষ্টরা।
ভেতরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, কালের কণ্ঠ এই সংবাদের মূল ভিত্তি হিসেবে দাঁড় করিয়েছে ‘ফটোসাংবাদিকের জার্নাল: প্রথম আলোর অন্দরমহল’ নামক একটি বিশেষ প্রতিবেদনকে, যা সুদীপ্ত সালাম নামের একজন সাবেক কর্মীর লিখিত। কালের কণ্ঠের দাবি, প্রথম আলো তাদের পত্রিকার কাটতি ও সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ের বাস্তব ছবির পরিবর্তে কৃত্রিম বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছবি ব্যবহার করে পাঠকদের দীর্ঘদিন ধরে বিভ্রান্ত করে আসছে।
তবে এই সংবাদটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উল্টো কালের কণ্ঠের সাংবাদিকতার নৈতিকতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথম আলোর মতো একটি প্রতিষ্ঠিত পত্রিকার বিরুদ্ধে এত বড় অভিযোগ তোলার পেছনে কালের কণ্ঠের নিজস্ব ব্যবসায়িক ও political স্বার্থ জড়িত। নিরপেক্ষ কোনো তদন্ত ছাড়া কেবল একজন ব্যক্তির ডায়েরি বা জার্নালকে পুঁজি করে পুরো একটি সংবাদ প্রতিষ্ঠানের গায়ে 'ভুয়া ছবি ব্যবহারের' সিল মেরে দেওয়া হলুদ সাংবাদিকতার শামিল। করপোরেট দ্বন্দ্বের জেরে এক পত্রিকা অন্য পত্রিকার পেছনে এভাবে সস্তা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোয় সাধারণ পাঠকদের মনে দেশের সামগ্রিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের মূলধারার মিডিয়া হাউজগুলোর এই কাদা ছোড়াছুড়ি নতুন কিছু নয়। এর আগেও বিভিন্ন করপোরেট গ্রুপ নিয়ন্ত্রিত পত্রিকাগুলো একে অপরের গোপন নথিপত্র বা কেলেঙ্কারি ফাঁসের নামে নিজেদের কাটতি বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। কালের কণ্ঠের এই আক্রমণাত্মক প্রচারণার পর প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে সচেতন পাঠকদের মতে, সত্যতা যাচাই না করে কেবল প্রতিদ্বন্দ্বীকে ঘায়েল করার এই "ডার্টি সিক্রেট" বা নোংরা কৌশল কালের কণ্ঠের নিজস্ব সম্পাদকীয় মানদণ্ডকেও ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।