
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীতে একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ ২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন সংলগ্ন যমুনা নদীতে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই নৌকাডুবির ঘটনায় পুরো নদীপাড় জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আজ সাপ্তাহিক হাটের দিন হওয়ায় নৌকাটিতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী এবং মালামাল বোঝাই করা হয়েছিল। অতিরিক্ত ওজন নিয়ে নদী পারাপারের সময় হঠাৎ করেই মাঝনদীতে নৌকাটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর যমুনার তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুহূর্তের মধ্যে নৌকাটি উল্টে গিয়ে পানির নিচে তলিয়ে যায়। নৌকাটি ডুবে যাওয়ার সাথে সাথেই যাত্রীরা তীব্র স্রোতের মধ্যে ছিটকে পড়েন। অনেক যাত্রী সাঁতরে এবং স্থানীয় মাঝিদের সহায়তায় তীরে উঠতে সক্ষম হলেও, নারী ও শিশুসহ ১০ জনের কোনো সন্ধান মেলেনি।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা নিজস্ব নৌকা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে ধুনট উপজেলা প্রশাসন এবং ফায়ার সার্ভিসের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়। তবে এই মুহূর্তে যমুনা নদীতে পানির তীব্র স্রোত এবং ঘূর্ণন থাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাতে ডুবুরি ও উদ্ধারকারীদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উদ্ধার কাজের তদারকি করছেন।
ধুনট থানা পুলিশ জানিয়েছে, নৌকাটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন তার সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নিখোঁজদের একটি খসড়া তালিকা তৈরির কাজ চলছে। নদীপাড়ে স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজদের স্বজনরা নদীর তীরে ভিড় জমিয়েছেন প্রিয় মানুষের খোঁজে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের যৌথ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নদীপাড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।