
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখী মানুষের আনুষ্ঠানিক যাত্রা পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এক বিশাল অংশে দেখা দিয়েছে তীব্র ও দীর্ঘ যানজট। আজ ২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এই যানজট মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি অংশের ইলিয়টগঞ্জের পুটিয়া থেকে শুরু হয়ে মুন্সিগঞ্জের মেঘনা-গোমতী সেতু পার হয়ে গজারিয়া পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে শত শত যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেটকার এবং কোরবানির পশুবাহী ও জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক রাস্তায় স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোরের দিকে মেঘনা-গোমতী সেতুর ওপর ঢাকামুখী লেনে একটি দ্রুতগামী পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। সেতুর সংকীর্ণ লেনে ট্রাকটি উল্টে যাওয়ার কারণে মহাসড়কের ওই অংশে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই মহাসড়কের উভয় পাশে গাড়ির জটলা তৈরি হতে শুরু করে। কাঁচপুর থেকে মেঘনা সেতু এবং দাউদকান্দি থেকে গোমতী সেতু পর্যন্ত লেনে গাড়ির চাকা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই মাইলের পর মাইল জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই হাইওয়ে পুলিশের একটি বিশেষ দল ভারী রেকার নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও, ততক্ষণে মহাসড়কের উভয় দিকে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, "গাড়িটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হলেও ঈদযাত্রার অতিরিক্ত গাড়ির চাপের কারণে এবং চালকদের উল্টো পথে গাড়ি চালানোর প্রতিযোগিতার ফলে জটলাটি নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে।"
এদিকে মে মাসের তীব্র ও ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় আটকে থাকায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের অবস্থা সবথেকে শোচনীয় হয়ে পড়েছে। অনেক পশুবাহী ট্রাকের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকায় তীব্র গরমে ট্রাকে থাকা কোরবানির পশুগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ছে, যা তাদের বড় ধরণের আর্থিক লোকসানের ঝুঁকিতে ফেলেছে। দূরপাল্লার বাস চালকরা অভিযোগ করেছেন যে, মেঘনা ও গোমতী সেতুর টোল প্লাজাগুলোতে টোল আদায়ের ধীরগতির কারণেও মহাসড়কে গাড়ির চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকে, যা ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটলেই মহাসড়ককে স্থবির করে দেয়।
বিকেল পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ এবং কমিউনিটি পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় গাড়িগুলো ধীরগতিতে চলতে শুরু করেছে। তবে মহাসড়কের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালকদের ধৈর্য ধারণ করার এবং কোনো অবস্থাতেই উল্টো লেনে গাড়ি না চালানোর জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঈদযাত্রার শুরুতেই এমন ভয়াবহ ভোগান্তি আগামী দিনগুলোতে ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।