
সরকার আগামী জাতীয় বাজেটে আবারও “সম্পদ কর” (Wealth Tax) চালুর পরিকল্পনা করছে। লক্ষ্য হচ্ছে অতিরিক্ত প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় এবং আয়-বৈষম্য কমানো। বর্তমানে যে সম্পদ সারচার্জ ব্যবস্থা আছে, সেটি বাতিল করে সরাসরি নিট সম্পদের ওপর কর আরোপের চিন্তা করা হচ্ছে। প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী সম্ভাব্য কাঠামো হতে পারে—
৪ কোটি টাকা পর্যন্ত নিট সম্পদ — করমুক্ত ৪–৬ কোটি টাকা — ০.২৫% পরবর্তী ৫ কোটি টাকা — ০.৫০% এরপরের ৫ কোটি টাকা — ০.৭৫% ১৬ কোটির বেশি — সর্বোচ্চ ১% কর
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশে ধনী-গরিব বৈষম্য দ্রুত বাড়ছে। তাই পুনর্বণ্টনমূলক করনীতি হিসেবে সম্পদ কর যৌক্তিক হতে পারে। তবে বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সম্পদের সঠিক বাজারমূল্য নির্ধারণ, কর ফাঁকি রোধ এবং মামলা-মোকদ্দমা সামাল দেওয়া।
বর্তমানে সম্পদ সারচার্জ আয়করের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও অনেকেই তুলনামূলক কম কর দেন। নতুন ব্যবস্থায় সরাসরি সম্পদের ওপর কর বসলে রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে মনে করছে National Board of Revenue।
উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— কারও ১০০ কোটি টাকার সম্পদ থাকলেও বর্তমান ব্যবস্থায় তার সারচার্জ কয়েক লাখ টাকায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। কিন্তু ১% সম্পদ কর চালু হলে কর দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ কোটি টাকা।
বর্তমানে ১১ হাজারের কিছু বেশি করদাতা সম্পদ সারচার্জের আওতায় আছেন। তথ্য আদান-প্রদান ও নজরদারি বাড়ানো গেলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে সরকার।