
বর্তমানে বাংলাদেশের ডেইরি শিল্প এক চরম ক্রান্তিকাল পার করছে। যেখানে আমাদের দেশের লাখ লাখ খামারি হাড়ভাঙা খাটুনি করে দুধ উৎপাদন করছেন, সেখানে খামারিদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত না করে বছরে প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকা খরচ করে বিদেশ থেকে গুঁড়া দুধ আমদানি করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে দুধের বার্ষিক চাহিদা ১৫.৬৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন, যার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ১৩.০৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন। এই বিশাল ঘাটতি থাকার পরেও বাজারে দেশি তরল দুধের চাহিদা কমে যাচ্ছে মূলত একটি শক্তিশালী গুঁড়া দুধ আমদানিকারক সিন্ডিকেটের কারণে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ডলারের গুঁড়া দুধ আনা হচ্ছে, যার প্রভাবে বাজারে দেশি দুধের দাম পড়ে যাচ্ছে। এক লিটার দুধ উৎপাদনে কৃষকের খরচ যেখানে প্রায় ৪৩ টাকা, সেখানে তারা সস্তা গুঁড়া দুধের অসম প্রতিযোগিতায় পড়ে মাত্র ৩৫-৪০ টাকায় দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই সংকট উত্তরণে আমদানিকৃত গুঁড়া দুধের ওপর অন্তত ১০% শুল্ক (Tax) আরোপ করা এখন সময়ের দাবি। এতে আমদানিকৃত দুধের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশি খামারিরা তাদের দুধের সঠিক মূল্য পাবেন। সরকার ২০২৫ সালে 'বাংলাদেশ ডেইরি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড' গঠন করেছে এবং কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর যে লক্ষ্য নিয়েছে, তা সফল করতে হলে স্থানীয় বাজার সুরক্ষা দেওয়া অপরিহার্য। যদি এখনই আমদানির লাগাম টেনে ধরা না যায়, তবে প্রান্তিক খামারিরা নিঃস্ব হয়ে যাবেন এবং ডেইরি শিল্পে আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হবে। তাই দেশীয় শিল্প ও কৃষকের স্বার্থে গুঁড়া দুধের আমদানি কমিয়ে স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে কঠোর সরকারি পদক্ষেপ প্রয়োজন।