
চাঁদপুরের একটি আবাসিক এলাকায় গরুর মাংস রান্না করাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট প্রতিবেশিদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শহরের একটি বহুতল ভবনের পাশাপাশি দুটি ফ্ল্যাটে পাশাপাশি দুটি পরিবার ভাড়া থাকতেন, যার মধ্যে একটি মুসলিম ও অপরটি হিন্দু পরিবার। মুসলিম পরিবারটি বাসায় গরুর মাংস রান্না করলেই পাশের ফ্ল্যাটের হিন্দু নারী তীব্র আপত্তি জানিয়ে প্রায়শই ঝগড়ায় লিপ্ত হতেন বলে ভুক্তভোগী পরিবারটি দাবি করেছে।
এভাবে বেশ কয়েকবার অপ্রীতিকর ঘটনা ও বাকবিতণ্ডার পর মুসলিম নারী নিরুপায় হয়ে বিষয়টি বাড়ির মালিককে অবহিত করেন। ফ্ল্যাট মালিক উভয় পক্ষের শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সেই হিন্দু নারীকে প্রথমে সতর্ক করেন। তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় পরবর্তীতে তাকে চলতি মাসের মধ্যে বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়। বাসা ছাড়ার এই নির্দেশে ওই নারী চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই ঘটনার জেরে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে ওই নারী প্রতিবেশীর অবুঝ শিশুর ওপর নৃশংস আক্রমণ চালান। ফুটন্ত গরম পানি ওই শিশুর শরীরে ঢেলে দেওয়া হয়, যার ফলে তার পিঠ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং দীর্ঘ চিকিৎসার পর সে বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে। এই অমানবিক ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করে।
মামলার প্রেক্ষিতে স্থানীয় থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হিন্দু নারীকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। তবে মামলার আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বর্তমানে তিনি আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে মুক্ত রয়েছেন। জামিন পাওয়ার পর ওই নারী আত্মগোপনে থেকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে চাকরিতে যোগদান করেছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারটি সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছে।