
আটলান্টিক মহাসাগরের প্রমোদতরী 'এমভি হোন্ডিয়াস'-এ ছড়িয়ে পড়া হান্টাভাইরাস (Andes virus) পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইসিডিসি (ECDC)। আজ ১৩ মে ২০২৬ তারিখের সবশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মোট ১১ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ৮ জন ল্যাবরেটরি-নিশ্চিত, ২ জন সম্ভাব্য এবং ১ জনের ফলাফল অমীমাংসিত। প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩ জন যাত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই প্রাদুর্ভাবের প্রাথমিক ব্যবস্থাপনাকে "সফল" বলে উল্লেখ করেছেন। গত ১১ মে জাহাজটি স্পেনের তেনেরিফে বন্দরে পৌঁছানোর পর সকল যাত্রী ও ক্রুকে তাদের নিজ নিজ দেশে সফলভাবে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে আক্রান্ত এবং ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়া এবং কঠোর কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করাকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সামনের কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত "বিপজ্জনক" হতে পারে কারণ হান্টাভাইরাসের সুপ্তিকাল বা ইনকিউবেশন পিরিয়ড ৪২ দিন পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে।
শনাক্ত হওয়া ভাইরাসটি 'আন্দিজ হান্টাভাইরাস' (Andes virus) হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। এটি হান্টাভাইরাসের একমাত্র ধরণ যা ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘস্থায়ী সংস্পর্শের মাধ্যমে সরাসরি মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে সক্ষম। বর্তমানে যাত্রীদের কন্টাক্ট ট্রেসিং বা সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার কাজ চলছে। নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যসহ অন্তত ১৫টি দেশের কর্তৃপক্ষ তাদের নাগরিকদের ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের প্রধান উদ্বেগ এখন সম্ভাব্য 'সেকেন্ডারি সংক্রমণ' নিয়ে। অর্থাৎ, জাহাজ থেকে ফেরার পর কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের মাধ্যমে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। যদিও সাধারণ জনগণের জন্য এই ভাইরাসের ঝুঁকি বর্তমানে "খুবই কম", তবুও দীর্ঘ সুপ্তিকালের কারণে নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা এখনও রয়ে গেছে। আক্রান্তদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো টিকা বা ওষুধ না থাকায় লক্ষণভিত্তিক ও নিবিড় চিকিৎসাকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।