
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আজ ১৩ মে ২০২৬ তারিখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ জন মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩২ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, সবশেষ মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে সিলেটে ৩ জন, ময়মনসিংহে ২ জন এবং চট্টগ্রাম ও বরিশালে ১ জন করে শিশু রয়েছে। বরিশাল বিভাগে মারা যাওয়া শিশুটি নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল বলে জানানো হয়েছে। একই সময়ে সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ৪৮৯ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং ১২৬ জনের শরীরে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৫৩ হাজার ৫৬ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ১৫০ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। মোট মৃত্যুর ৪৩২ জনের মধ্যে ৬৯ জন নিশ্চিতভাবে হামে এবং ৩৬৩ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারে এখন পর্যন্ত ঢাকা বিভাগ সবথেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা এই রোগে সবথেকে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে, যা মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সারাদেশে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি (MR Vaccine) আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চিকিৎসকরা অভিভাবকদদের পরামর্শ দিয়েছেন যে, শিশুদের শরীরে জ্বর ও ফুসকুড়ি দেখা দিলেই দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য।