
বাংলাদেশে গত কয়েক সপ্তাহে হাম বা মিজলস (Measles) রোগের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে ২০২৬ পর্যন্ত দেশজুড়ে ৪১ হাজার ৭৯৩ জন শিশু এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৫৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় ধরণের উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১ হাজার ৩০২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে যার ফলে হাসপাতালগুলোতে স্থান সংকুলান হচ্ছে না।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ঢাকা বিভাগে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ হাজার ৯৭৫ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৩৪। এছাড়া রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগেও সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। গত পাঁচ বছরের তুলনায় ২০২৬ সালের এই প্রাদুর্ভাবকে ‘নজিরবিহীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। যেখানে ২০২৫ সালে সারা বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ১২৫ জন সেখানে বর্তমানে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে।
সংক্রমণের এই তীব্রতার প্রধান কারণ হিসেবে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে স্থবিরতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকার ৯৯ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও বর্তমানে প্রশাসনিকভাবে মাত্র ৬০ শতাংশের কাছাকাছি শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতেও হামের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যেখানে ঘনবসতির কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই সংক্রামক রোগ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় এই মহামারি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। যারা এখনও টিকা গ্রহণ করেনি তাদের নিকটবর্তী টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে। ২০২৬ সালের এই মে মাসে হামের এই প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে স্থানীয় পর্যায়ে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।