
থাইল্যান্ডের ঐতিহাসিক শহর লোপবুরি যা বিশ্বজুড়ে বানরদের শহর বা মাঙ্কি সিটি হিসেবে পরিচিত সেখানে বর্তমানে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। হাজার হাজার বানরের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা এবং তাদের বেপরোয়া আচরণের কারণে স্থানীয় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পর্যটন শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে থাই সরকার এখন বিশাল এক বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।
শহরটিতে দীর্ঘকাল ধরে বানর এবং মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসলেও বর্তমানে বানরের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় তারা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। খাবারের সন্ধানে বানরগুলো পর্যটকদের ব্যাগ কেড়ে নেওয়া থেকে শুরু করে দোকানপাট লুট এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এমনকি বানরদের দাপটে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন মালিকরা। পর্যটকরাও এখন এই ঐতিহাসিক শহরটিতে ভ্রমণ করতে ভয় পাচ্ছেন যা স্থানীয় অর্থনীতির ওপর বড় ধরণের আঘাত।
থাইল্যান্ডের জাতীয় উদ্যান এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ জানিয়েছে তারা পর্যায়ক্রমে এই হাজারো বানরকে ধরে শহরের বাইরে বিশেষ অভয়ারণ্যে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। বিশেষ খাঁচা এবং সিডেটিভ বা অবশকারী গান ব্যবহার করে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এই বানরগুলো কেবল বিরক্তিকরই নয় বরং এরা অনেক সময় সংক্রামক রোগ ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবেও কাজ করতে পারে। তাই জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
তবে এই অভিযানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেক বন্যপ্রাণী অধিকারকর্মী। তাদের মতে বানরগুলো লোপবুরি শহরের ঐতিহ্যের অংশ এবং পর্যটনের প্রধান আকর্ষণ। তাই তাদের সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে না দিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। বর্তমানে থাই সরকার এবং বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এই সংকট নিরসনে আলোচনা চলছে। পুরো বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে বন্যপ্রাণী এবং মানুষের সহাবস্থানের নতুন এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।