
বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হান্টাভাইরাসের একটি বিরল প্রাদুর্ভাব। ২০২৬ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে চলাচলকারী 'এমভি হন্ডিয়াস' (MV Hondius) নামক একটি প্রমোদতরীতে (Cruise Ship) এই ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। সবশেষ খবর অনুযায়ী, জাহাজটিতে থাকা যাত্রী ও ক্রুদের মধ্যে মোট ৮ জন হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫ জনের শরীরে ভাইরাসের অস্তিত্ব ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই সংক্রমণে এখন পর্যন্ত ৩ জন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, জাহাজটিতে যে হান্টাভাইরাসটি পাওয়া গেছে সেটি মূলত 'অ্যান্ডিস ভাইরাস' (Andes virus) ভ্যারিয়েন্ট। হান্টাভাইরাসের অন্যান্য ভ্যারিয়েন্ট সাধারণত মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না, কিন্তু এই 'অ্যান্ডিস ভাইরাস' অত্যন্ত সীমিত পরিসরে একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। তবে এর জন্য দীর্ঘক্ষণ ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকার প্রয়োজন হয়। আক্রান্ত জাহাজটি বর্তমানে আফ্রিকার কেপ ভার্দে (Cabo Verde) উপকূলের কাছে নোঙর করে আছে এবং সেখানে কঠোর কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে যাত্রা শুরু করা এই প্রমোদতরীটি অ্যান্টার্কটিকা এবং দক্ষিণ আটলান্টিকের বিভিন্ন প্রত্যন্ত দ্বীপে যাত্রাবিরতি করেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো বন্য প্রাণীর সংস্পর্শ বা দূষিত পরিবেশ থেকেই প্রথম সংক্রমণটি ছড়িয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে তীব্র জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক লক্ষণ দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে নেদারল্যান্ডস, ব্রিটেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিশেষজ্ঞ দল জাহাজটি থেকে আক্রান্তদের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে।
যদিও এই ঘটনাটি বেশ উদ্বেগজনক, তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে যে সাধারণ জনগণের জন্য এর ঝুঁকি বর্তমানে 'নিম্ন' পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রমোদতরী বা আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করলে এই ভাইরাসের গণ-সংক্রমণের কোনো আশঙ্কা নেই। তবে আক্রান্ত দেশগুলো থেকে আগত যাত্রীদের লক্ষণ পর্যালোচনার জন্য বিমানবন্দর ও বন্দরগুলোতে স্ক্রিনিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বন্য প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাই এই মূহুর্তে প্রধান সুরক্ষা কবজ।