
দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শওকত আজিজ রাসেলের বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণের পাহাড় এবং বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ার অভিযোগ নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ট্যাক্স বা আয়কর নিয়ে তার সচেতনতার কথা শোনা গেলেও, ২০১২-২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৫ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা তৎকালীন সময়ে প্রায় ৮৩ কোটি টাকা) দিয়ে দুটি বাড়ি কেনার বিষয়ে তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমান বাজার মূল্যে এসব সম্পত্তির দাম আরও বৃদ্ধি পেলেও, এই বিশাল অংকের অর্থ তিনি বাংলাদেশ থেকে কোন পন্থায় বিদেশে নিয়েছিলেন এবং তা তার নিয়মিত আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করা আছে কি না—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এছাড়া ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে ‘আম্বার ওভারসিজ লিমিটেড’ নামে একটি রিয়েল এস্টেট ব্যবসা খোলার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যথাযথ অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের আর্থিক খাতে তার ঋণের বোঝা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, দেশের সরকারি-বেসরকারি ১৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে শওকত আজিজ রাসেল প্রায় ১ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছেন। এই বিপুল অংকের ঋণের মধ্যে বর্তমানে ৫২১ কোটি টাকাই বকেয়া (ওভারডিউ) হয়ে পড়েছে, যা পরিশোধে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে তার ঋণের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলো যখন এই পাওনা আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে, তখন তিনি আইনি কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিলের মাধ্যমে ঋণের ওপর স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) নিয়ে তিনি ব্যাংকের আইনি প্রক্রিয়াকে দীর্ঘদিন আটকে রেখেছেন। সম্প্রতি কিছু ক্ষেত্রে আদালতের স্থগিতাদেশ বাতিল হলেও, তার প্রভাবশালী মহলের সাথে সখ্যের কারণে ব্যাংকগুলো বকেয়া টাকা আদায়ে চরম বেগ পাচ্ছে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতের সুশাসনের ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।