
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। নির্বাচনের ফলাফলে বিজয়ী হয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ওপর এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ৬ মে ২০২৬ রাতে এই অতর্কিত হামলায় শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। হামলায় তাঁর গাড়ির চালকও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে সৌভাগ্যক্রমে পশ্চিমবঙ্গের হবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে অক্ষত রয়েছেন।
সূত্রে জানা গেছে, শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ব্যক্তিগত কনভয় নিয়ে ফেরার পথে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণ শুরু করে। এতে গাড়ির সামনের আসনে থাকা তাঁর পিএস সরাসরি গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। দুর্বৃত্তদের গুলিতে গাড়ির চালকও আহত হন, যাঁকে বর্তমানে স্থানীয় একটি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পরপরই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
বিজেপির পক্ষ থেকে এই হামলাকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার নিন্দা জানানো হলেও একে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হিসেবে না দেখে তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। বিজেপি সমর্থকদের দাবি, নির্বাচনের ফলাফলে পরাজিত একটি বিশেষ গোষ্ঠী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতেই এই ধরণের নৃশংস হামলা চালিয়েছে।
বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখেছে এবং সন্দেহভাজনদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের ঠিক আগ মুহূর্তে এই ধরণের প্রাণঘাতী হামলা কেবল রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেনি, বরং দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে এর কোনো প্রভাব বাংলাদেশে না পড়ে।