
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ৬ মে ২০২৬ রাতে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সাম্প্রতিক ইরানি হামলার বিষয়ে গভীর আলোচনা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এমিরেটস নিউজ এজেন্সি (ওয়াম) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে যে দুই নেতা ইরানের সাম্প্রতিক ড্রোন ও মিসাইল হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ফোনালাপ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশটির নেওয়া যেকোনো পদক্ষেপের প্রতি ইসরাইলের অটল সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেন। ইসরাইলের পক্ষ থেকে এই হামলাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরণের হুমকি এবং সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে বর্তমান ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বা আইসিসির ওয়ারেন্টভুক্ত একজন ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের পাল্টা হামলার পর থেকে এই অঞ্চলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে তেল আবিব। ফোনালাপে নেতানিয়াহু আমিরাতকে আশ্বস্ত করেছেন যে কোনো ধরণের বহিঃশত্রুর আক্রমণ মোকাবিলায় তারা আমিরাতের পাশে থাকবে। ২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বা ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল এই ফোনালাপ তার ধারাবাহিকতাকেই আরও শক্তিশালী করল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে গত কয়েক বছরে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরাইলের মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তা মধ্যপ্রাচ্যের চিরাচরিত ভূরাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় দুই দেশের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ও গাজা ইস্যু নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা থাকলেও আমিরাতের সাথে এই সুসম্পর্ক বজায় রাখা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিচ্ছে।