
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপিকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে।
বিএনপির নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন, এতদিন তিস্তা চুক্তির পথে দিল্লি নয় বরং মূল বাধা ছিল কলকাতা। পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী তৃণমূল সরকার তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে এই চুক্তির বিরোধিতা করে আসছিল। বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ছিলেন এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চুক্তির প্রধান প্রতিবন্ধক। এখন যেহেতু পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তাই তারা কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত এই সংকটের সমাধান করতে পারবে বলে বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।
তিস্তা ইস্যুটি কেবল একটি পানিবণ্টন চুক্তি নয়, এটি বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের কোটি কোটি কৃষকের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যখন পানির প্রাপ্যতা কমে আসছে, তখন ন্যায্য হিস্যা না পাওয়া এই অঞ্চলের কৃষি খাতকে হুমকির মুখে ফেলেছে। উল্লেখ্য যে, ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদও চলতি বছরের শেষে শেষ হতে যাচ্ছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পশ্চিমবঙ্গের এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ঢাকা ও দিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছে বিএনপি।
যদিও বিএনপির সঙ্গে বিজেপির আদর্শিক মতভেদ রয়েছে, তবুও তিস্তা নদীর পানিবণ্টন এবং সীমান্ত নিরাপত্তার মতো মৌলিক ইস্যুতে উভয় পক্ষ একমত হতে পারবে বলে হেলাল আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি মনে করেন, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে একাত্ম হয়ে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পকে বাস্তবে রূপদান করবে। ফলে গত ১৫ বছর ধরে চলা অচলাবস্থার অবসান ঘটবে এবং বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হবে।