
ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বা গেরুয়া উগ্রবাদের ভয়াবহ প্রসার এখন কেবল ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর সরাসরি আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন সাধারণ নারীরা। সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয় অজুহাত এবং উগ্র আদর্শের দোহাই দিয়ে নারীদের ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে চড়াও হওয়ার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। চরমপন্থী এই মতাদর্শ এখন নারীদের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় লেবাসে নারীদের হেনস্তা করার চিত্র প্রকট হয়ে উঠেছে। মুসলিম নারীদের হিজাব বা বোরকা পরা নিয়ে প্রকাশ্য লাঞ্ছনা থেকে শুরু করে হিন্দু নারীদের ব্যক্তিগত পছন্দ ও চলাফেরার ক্ষেত্রে ‘নীতি পুলিশ’ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেরুয়াধারী উগ্রপন্থীরা জনসমক্ষে নারীদের পথরোধ করছে এবং ধর্মীয় অনুশাসনের দোহাই দিয়ে তাদের সাথে অশালীন আচরণ করছে।
মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের উগ্রবাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সমাজে ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং নারী সমাজকে ভয়ভীতির মাধ্যমে ঘরবন্দি করে রাখা। প্রশাসনের একাংশের নীরবতা এবং উগ্রপন্থীদের প্রতি নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি এই অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ উগ্রবাদের এই বিষবাষ্প ভারতের দীর্ঘদিনের ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন যে, উগ্রপন্থার এই উস্কানি যদি এখনই কঠোর হস্তে দমন করা না যায়, তবে এটি নারী অধিকারকে কয়েক দশক পিছিয়ে দেবে। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য এই ধরণের ধর্মীয় চরমপন্থা নির্মূল করা এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।