
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ এর ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নজিরবিহীন রাজনৈতিক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বীরভূম জেলার নানুরে আবির শেখ নামে এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত আবির শেখ নানুর অঞ্চল কমিটির সদস্য ছিলেন। পরিবারের দাবি যে মঙ্গলবার ৫ মে ২০২৬ দুপুরে একদল দুর্বৃত্ত তাকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে। এই হত্যাকাণ্ডের পর নানুর ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা নদিয়া হাওড়া এবং বাঁকুড়া জেলা থেকেও। দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটিতে একটি পঞ্চায়েত কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে জয় নিশ্চিত করার পর বিজেপি কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় তাদের কার্যালয় ভাঙচুর করছে এবং কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফলাফল।
নির্বাচন পরবর্তী এই সংঘাতের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি একটি বিশেষ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি তার সমর্থকদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিলেও কলকাতায় তৃণমূলের একাধিক কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে এই অস্থিরতা কাজ করছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই রাজ্য প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে।
বর্তমানে বীরভূমের নানুরসহ উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার পরিস্থিতি থমথমে। উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে পুলিশ। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে যে ক্ষমতার রদবদল লক্ষ করা যাচ্ছে তা শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় কি না সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ নাগরিকরা এই রাজনৈতিক ডামাডোলে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।