
মহাকাশ গবেষণায় নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করল চীন। আজ বুধবার ৬ মে ২০২৬ ভোরে চীনের ড্রাগন মহাকাশযান ‘চ্যাং-ই ৮’ (Chang'e 8) চাঁদের দক্ষিণ মেরুর অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় সফলভাবে অবতরণ করেছে। এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে চাঁদে বরফ বা পানির অস্তিত্ব নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে সেখানে মানুষের বসবাসের উপযোগী স্থায়ী কলোনি স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করা। বেইজিং অ্যারোস্পেস কন্ট্রোল সেন্টার থেকে এই সফল অবতরণের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
চীনের ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (CNSA) জানিয়েছে যে চ্যাং-ই ৮ কেবল একটি রোভার নয় বরং এটি একটি ভ্রাম্যমাণ গবেষণাগার। এটি চাঁদের মাটি বা রেগোলিথ পরীক্ষা করে সেখানে থাকা খনিজ সম্পদ এবং পানির অণু বিশ্লেষণ করবে। এর আগে ২০২৪ সালে চীন চাঁদের উল্টো পিঠ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ইতিহাস গড়েছিল আর এবার দক্ষিণ মেরুতে অবতরণের মাধ্যমে তারা সরাসরি আমেরিকার নাসার (NASA) আর্টেমিস মিশনের সাথে প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল।
মহাকাশ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পানির সন্ধান পাওয়া গেলে তা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহ অভিযানের জন্য জ্বালানি তৈরির ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। চ্যাং-ই ৮ মিশনে একটি বিশেষ থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি পাঠানো হয়েছে যা চাঁদের মাটি ব্যবহার করে কাঠামো তৈরি করতে সক্ষম কি না তা পরীক্ষা করবে। এটি সফল হলে ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে স্থায়ী চীনা গবেষণাকেন্দ্র স্থাপনের পথ প্রশস্ত হবে।
এদিকে চীনের এই অভাবনীয় সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থাগুলো। তবে ২০২৬ সালের এই তীব্র মহাকাশ প্রতিযোগিতার যুগে চাঁদের সম্পদের ওপর কার নিয়ন্ত্রণ থাকবে তা নিয়ে ভূরাজনৈতিক বিতর্কও নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে। রাশিয়া এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এই মিশনে চীনের সাথে বৈজ্ঞানিক তথ্য বিনিময়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে রোভারটি তার সোলার প্যানেল সচল করেছে এবং প্রাথমিক ডেটা পৃথিবীতে পাঠাতে শুরু করেছে।