
রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরে চলমান "শাপলার শহীদচিত্র" শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনীতে হেফাজতে ইসলামের ঐতিহাসিক ১৩ দফা দাবি এবং প্রয়াত আমির আল্লামা আহমদ শফীর খোলা চিঠি প্রদর্শন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রদর্শনী থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নথিসমূহ সরিয়ে ফেলার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে ইতিহাসের খণ্ডিত উপস্থাপন হিসেবে অভিহিত করে এর সমালোচনা করছেন।
প্রদর্শনী সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে যে আয়োজনের প্রাথমিক তালিকায় ১৩ দফা এবং আল্লামা শফীর চিঠি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে সেগুলো বাদ দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি যে কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় ইশতেহার সরাসরি প্রদর্শন করা জাদুঘরের নীতিমালা অনুযায়ী সংবেদনশীল হতে পারে। তবে আয়োজকদের একাংশ এবং দর্শনার্থীরা মনে করছেন যে ৫ মে’র ট্র্যাজেডির প্রেক্ষাপট বুঝতে এই নথিগুলো অপরিহার্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। অনেকেই বিষয়টিকে "নতুন ফ্যাসিবাদ" বা "ইতিহাস বিকৃতি" হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। সমালোচকদের মতে একটি জাতীয় প্রদর্শনীতে ঐতিহাসিক সত্যকে আড়াল করা হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অসম্পূর্ণ বার্তা পৌঁছাবে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে যখন মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হচ্ছে তখন এই ধরনের সিদ্ধান্ত জাতীয় আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী বলে মনে করছেন অনেকে।
জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কঠোর বিবৃতি এখনও না আসলেও তারা বিষয়টিকে অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাব হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা জানিয়েছেন যে প্রদর্শনীটি একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য সাজানো হয়েছে যেখানে কেবল ঘটনার চিত্রগত দিকটি ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। তবে উলামা মাশায়েখ এবং সচেতন নাগরিকদের দাবি হচ্ছে শাপলা চত্বরের ঘটনার সঠিক ইতিহাসের অংশ হিসেবেই এই নথিসমূহকে পুনরায় প্রদর্শনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
পরিশেষে শাপলা চত্বরের সেই ট্র্যাজেডি কেন্দ্রিক প্রদর্শনীটি বর্তমানে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও এই বিতর্কটি প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্যের ওপর এক ধরণের ছায়া ফেলেছে। ইতিহাসের সত্যতা বজায় রাখা এবং সকল পক্ষের দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে কর্তৃপক্ষ কোনো সংশোধনী আনে কি না সেটিই এখন দেখার বিষয়। ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠাই সাধারণ মানুষের মূল প্রত্যাশা।