
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। সোমবার (৪ মে ২০২৬) ঐতিহাসিক 'শাপলা দিবস' উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই দাবি জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের সেই ঘটনা আধুনিক ইতিহাসের এক কলঙ্কময় অধ্যায়। নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর এমন বর্বরোচিত অভিযানের নজির বিরল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সেদিন যারা সেখানে অবস্থান করছিলেন তাদের অধিকাংশ ছিলেন অল্পবয়সী ছাত্র এবং তাদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না।
চরমোনাই পীর অভিযোগ করেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ইসলাম ও ইসলামপন্থীদের প্রতি বিদ্বেষ থেকেই এই অভিযান পরিচালনা করেছিল। তার মতে, ওই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমেই স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত হয়েছিল, যার মাশুল জাতিকে পরবর্তী ১১ বছর দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এখন সময় এসেছে সেই নৃশংসতার নির্মোহ তদন্ত করার।"
তিনি আরও বলেন, ৫ মে পরবর্তী সময়ে দেশের বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যমের একাংশের ভূমিকাও বিশ্লেষণ করা জরুরি। কোনো প্রশ্ন তোলার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে ওই বর্বরতাকে এক ধরণের বৈধতা দেওয়া হয়েছিল, যা স্বৈরতন্ত্রের পথ প্রশস্ত করেছে।
ইসলামী আন্দোলনের আমির শাপলা চত্বরের ঘটনায় নিহত ও আহতদের 'জাতীয় বীর' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। একইসঙ্গে তিনি শাপলা চত্বর কেন্দ্রিক সকল রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার এবং এই দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ করার আহ্বান জানান।