
ভারতের ডিজিটাল পরিমণ্ডলে ঝড় তোলা সম্পূর্ণ ব্যঙ্গাত্মক (Satirical) ও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম 'ককরোচ জনতা পার্টি' বা সংক্ষেপে সিজেপি (CJP) এবার অন-ফিল্ড বা সড়ক আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে। প্ল্যাটফর্মটির প্রতিষ্ঠাতা ও জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর অভিজিৎ দিপকে (Abhijeet Dipke) আগামী ৬ জুন ২০২৬ তারিখে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে একটি শান্তিপূর্ণ সড়ক আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। মূলত ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে, যা দেশটির ছাত্র ও তরুণ সমাজের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করা সিজেপি কীভাবে ভারতের তরুণ ও ছাত্রসমাজের ক্ষোভ প্রকাশের প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হলো, তার পেছনে রয়েছে একটি আলোচিত প্রেক্ষাপট। গত মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত একটি মামলার শুনানিতে আন্দোলনরত এবং বেকার তরুণদের একাংশকে ইঙ্গিত করে 'তেলাপোকা' (Cockroaches) ও 'পরজীবী' (Parasites) মন্তব্য করেছেন—এমন একটি খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেন যে তার বক্তব্যটি ভুল প্রেক্ষাপটে ছড়ানো হয়েছে এবং তিনি মূলত 'ভুয়া ডিগ্রিধারী' চক্রের উদ্দেশ্যে এই মন্তব্য করেছিলেন, ততক্ষণে তরুণদের ক্ষোভ রূপ নেয় একটি নতুন আন্দোলনে। এই 'তেলাপোকা' শব্দটিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে লুফে নিয়ে অভিজিৎ দিপকে গঠন করেন 'ককরোচ জনতা পার্টি'।
'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP)-এর মূল শক্তি হলো তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো, বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে এই মুহূর্তে তাদের ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ২২.৩ মিলিয়ন (২ কোটি ২৩ লাখ)। এক দশকেরও কম সময়ে ভারতের কোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বা স্বাধীন ক্যাম্পেইনের জন্য এত বিপুল পরিমাণ ফলোয়ার পাওয়া অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা। এই বিশাল ভার্চুয়াল শক্তিকেই এবার রাস্তায় নামিয়ে এনে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন অভিজিৎ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেবল নেট দুনিয়ায় সীমাবদ্ধ না থেকে সিজেপি-র এই অফলাইন বা সড়ক আন্দোলনের সিদ্ধান্ত ভারতের চলমান ছাত্র রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা ও বেকারত্ব নিয়ে তরুণদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে এই ৬ জুনের সমাবেশের মাধ্যমে। নয়া দিল্লির যন্তর মন্তরে হতে যাওয়া এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ভারতের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। একটি ভার্চুয়াল ব্যঙ্গাত্মক পেজ থেকে ভারতের মূলধারার রাজনীতি কাঁপানো এই আন্দোলন আগামী দিনে কী রূপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।