BanglaSentryবাংলাদেশ সংবাদমাধ্যম
সব
সারা দেশ
রাজনীতি
আন্তর্জাতিক
বাণিজ্য
প্রবাস
খেলাধুলা
বিনোদন
প্রযুক্তি
পরিবেশ
অপরাধ
শিক্ষা
স্বাস্থ্য
কৃষি
বিশ্লেষণ
মতামত
বাংলার গল্প
জ্ঞানকোষ
আইন ও আদালত
লাইফস্টাইল
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ধর্ম
সেন্ট্রি স্পেশাল
অন্যান্য
হোম/আইন ও আদালত/সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়...
আইন ও আদালত

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তি: জুডিশিয়াল অফিসারদের আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরার ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

100%

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তি: জুডিশিয়াল অফিসারদের আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরার ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কাঠামোতে একটি বড় ধরনের রদবদল সম্পন্ন হয়েছে। বহুল আলোচিত ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়’ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে এই সচিবালয়ে কর্মরত সিনিয়র সচিবসহ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। গত ১৯ মে ২০২৬, মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয় এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাথে সরাসরি পরামর্শক্রমেই সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তবে এই বিলুপ্তির ঘটনা দেশের আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার পটভূমি বিশ্লেষণে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাস করা হয়। এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারিকৃত ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালের শুরুতে সংশোধিত অধ্যাদেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়ে যায়। যদিও ১৯ মে তারিখে এই বদলি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়েছে, তবে সুপ্রিম কোর্টের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে যোগদানের তারিখ গত ১০ এপ্রিল থেকে ভূতাপেক্ষভাবে (Retrospectively) কার্যকর দেখানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে ছক আকারে কর্মকর্তাদের নাম এবং তাদের পূর্ববর্তী ও বর্তমান সংযুক্ত পদের বিবরণ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলীয় আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ দাবি করছে, পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ভেঙে দেওয়া ১৯৭২ সালের সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী, যেখানে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ পৃথকীকরণের রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে। সংসদের বিরোধী দল বিষয়টিকে 'বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ' আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ১৯৯৯ সালের ঐতিহাসিক 'মাসদার হোসেন বনাম রাষ্ট্র' মামলার রায়ের প্রসঙ্গ টেনে অনেক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলছেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর অর্জিত বিচার বিভাগের এই প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেওয়া সামগ্রিক বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি নেতিবাচক বার্তা।

তবে এই সিদ্ধান্তের স্বপক্ষে এবং উদ্ভূত সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে আজ ২১ মে ২০২৬ তারিখে এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে কথা বলেছেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "পৃথক সচিবালয় বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য সব দরজা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে, এমনটি ভাবা একেবারেই ভুল। যে সমস্ত জুডিশিয়াল অফিসার সুপ্রিম কোর্ট সেক্রেটারিয়েটের জন্য নিয়োজিত ছিলেন, তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা একটি আইনি ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মাত্র।" তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, যেহেতু পূর্ববর্তী অধ্যাদেশটি সংসদে আইনে রূপান্তরিত হয়নি এবং রহিতকরণ বিল পাস হয়েছে, তাই পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের আগে কর্মকর্তাদের মন্ত্রণালয়ে যুক্ত করা ছাড়া অন্য কোনো আইনি পথ ছিল না।

এটি কোনো আদালত অবমাননার শামিল কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার বাদল বলেন, "এখানে আদালত অবমাননার কোনো সুযোগ নেই। আদালত আইন নিয়ে তার ব্যাখ্যা বা মত দিতে পারলেও আইন প্রণয়ন ও বাতিলের চূড়ান্ত ক্ষমতা একমাত্র জাতীয় সংসদেরই। বিএনপি বা বর্তমান সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করতে চায় না। সংসদ এই আইনটি নিয়ে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অংশীজনদের (Stakeholders) সাথে আলোচনা করতে চায়। খুব শীঘ্রই পার্লামেন্টে এটিকে একটি কমপ্রিহেনসিভ বা যুগোপযোগী বিল আকারে আনা হবে, যাতে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক জটিলতা এড়ানো যায় এবং এটি পরিপূর্ণভাবে কার্যকারিতা লাভ করে। তাই এটি নিয়ে ভিন্ন রকম মন্তব্য বা দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।"

আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত হলেও অধস্তন আদালত, রেজিস্ট্রি এবং প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো, ব্যবহৃত যানবাহন এবং দাপ্তরিক সরঞ্জামাদির কোনো পরিবর্তন হবে না; তবে এগুলোর সার্বিক প্রশাসনিক ও বাজেট নিয়ন্ত্রণ এখন থেকে আইন ও বিচার বিভাগের এক্তিয়ারে চলে যাবে। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকার আগামী অধিবেশনে কী ধরণের সংশোধিত বিল সংসদে উত্থাপন করে, তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার ভবিষ্যৎ রূপরেখা।

ট্যাগ:সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তিবিচার বিভাগের স্বাধীনতাব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদলSupreme Court Secretariat abolishedBangladesh judiciary update 2026Ministry of Law posting
লিংক কপি হয়েছে!

ফটোকার্ড তৈরি করুন

বাংলাসেন্ট্রি

Preview
এই ছবিতে CORS সীমাবদ্ধতা থাকায় ডাউনলোডকৃত ফটোকার্ডে ছবি দেখা নাও যেতে পারে। ম্যানুয়ালি ছবি আপলোড করুন অথবা স্ক্রিনশট নিন।

BanglaSentryবাংলাদেশ সংবাদমাধ্যম
হোমঅনুসন্ধানআমাদের টিমকমিউনিটিনোটিফিকেশনঅ্যাকাউন্টআমাদের সম্পর্কেযোগাযোগগোপনীয়তা নীতিসেবার শর্তাবলী
ফেসবুকটেলিগ্রাম
বাংলা English العربية