
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে সংঘটিত গণহত্যার মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। আজ ১৪ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই তিন আসামিকে উক্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে শুনানির সময় প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম অভিযোগ করেন যে, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে অভিযানের সময় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই হত্যাকাণ্ডকে আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি প্রচার করেছিলেন যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেবল একদল অবাধ্য মানুষকে অপসারণ করেছে, যা প্রকৃত সত্যের পরিপন্থী। অন্যদিকে, একাত্তর টিভির প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং বিশেষ প্রতিনিধি ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তারা শুরু থেকেই হেফাজতের সমাবেশকে উসকানিমূলক হিসেবে প্রচার করেছেন এবং পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডের তথ্য গোপন ও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ভূমিকা পালন করেছেন।
এর আগে গত ৭ মে ট্রাইব্যুনাল এই তিনজনকে আজ আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। শুনানির পর আদালত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৭ জুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। উল্লেখ্য যে, এই মামলায় ইতিপূর্বেও সাবেক আইজিপি শহীদুল হক, এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক বরখাস্তকৃত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং শাহরিয়ার কবিরসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, শাপলা চত্বর অভিযানে অন্তত ৫৮ জন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।
২০১৩ সালের সেই রক্তাক্ত অভিযানের ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও দীর্ঘ সময় এই বিচার প্রক্রিয়া থমকে ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিষয়টি পুনরায় সামনে আসে। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুল হক ইসলামাবাদী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই গণহত্যার অভিযোগ দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলার প্রায় ৯০ শতাংশ তদন্ত কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে পেশ করা হবে।