
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক নৃশংস ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার (৯ মে ২০২৬) ভোরে স্থানীয়রা ফোরকান মিয়া নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে ৫টি নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। এই ঘটনায় পুরো ঢাকা বিভাগজুড়ে চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছে তিন শিশু, একজন নারী এবং একজন যুবক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে প্রতিবেশীরা ফোরকানের ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের মরদেহগুলো দেখতে পান। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় করেন। গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ সার্কেল) আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া নিজেই এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি তার স্ত্রী, তিন সন্তান এবং নিজের শ্যালককে গলা কেটে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ঠিক কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পিবিআই (PBI) ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পারিবারিক কলহ নাকি অন্য কোনো মানসিক বৈকল্যের কারণে ফোরকান এই জঘন্য কাজ করেছেন, তা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কাপাসিয়া থানা পুলিশ।