
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজার বিরুদ্ধে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠে আসছে। জোরপূর্বক দোকান দখল এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদের পিতাকে প্রাণনাশের হুমকির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ এবং বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ইলেকট্রিক কার্ট আটকে চাঁদা দাবির মতো অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫তম ব্যাচের সাবেক ছাত্রদল নেতা রুবেল পারভেজ অভিযোগ করেছেন যে, সেলিম রেজা তাঁর আপন বড় ভাইয়ের সঙ্গেও প্রতারণা করেছেন। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বড় ভাইয়ের কাছ থেকে টাকা নিলেও শেষ পর্যন্ত চাকরি দিতে পারেননি। রুবেল আরও জানান, তাঁর অনুপস্থিতিতে বালু ও হোটেলের ব্যবসা দেখাশোনার দায়িত্বে থাকাকালীন সেলিম প্রায় দুই লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং সরকারি গুচ্ছগ্রামের জন্য বরাদ্দকৃত বালু গোপনে অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সহ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান শিউল অভিযোগ করেছেন যে, সেলিম রেজা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর বোনের বাড়ি দখলের চেষ্টা করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেলিম রেজা আলোচিত সাবেক ছাত্রদল নেতা ও অস্ত্র ব্যবসায়ী গালিব ইমতিয়াজ নাহিদের ছত্রছায়ায় এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য যে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক হয়েছিলেন ওই নাহিদ।
এই সকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সেলিম রেজা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগই মিথ্যা এবং বানোয়াট। তবে একের পর এক ভুক্তভোগী সামনে আসায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।