BanglaSentryবাংলাদেশ সংবাদমাধ্যম
সব
সারা দেশ
রাজনীতি
আন্তর্জাতিক
বাণিজ্য
প্রবাস
খেলাধুলা
বিনোদন
প্রযুক্তি
পরিবেশ
অপরাধ
শিক্ষা
স্বাস্থ্য
কৃষি
বিশ্লেষণ
মতামত
বাংলার গল্প
জ্ঞানকোষ
আইন ও আদালত
লাইফস্টাইল
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ধর্ম
সেন্ট্রি স্পেশাল
অন্যান্য
হোম/সারা দেশ/চট্টগ্রাম/কক্সবাজারে পাহাড় কেটে...
সারা দেশ

কক্সবাজারে পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের জন্য চলছে দোতলা ঘর নির্মাণ!

100%

কক্সবাজারে পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের জন্য চলছে দোতলা ঘর নির্মাণ!

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী আবাসন নির্মাণের এক রহস্যজনক চিত্র সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তদারকিতে শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে এখন আর অস্থায়ী তাবু বা বাঁশের শেড নয়, বরং আধুনিক প্রকৌশলী নকশায় নির্মিত হচ্ছে মজবুত ও স্থায়ী দোতলা ঘর। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ও এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করে পাহাড়ের ঢাল সমান করা হচ্ছে এবং সেখানে সারি সারি লোহার কাঠামোর ওপর দোতলা ঘরের কঙ্কাল দাঁড়িয়ে আছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর বিরুদ্ধে প্রচলিত পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে এই স্থায়ী আবাসন নির্মাণের সরাসরি অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এই স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের ফলে স্থানীয় জনগণের মনে এই আশঙ্কাই প্রবল হচ্ছে যে—রোহিঙ্গারা কি তবে আদৌ বাংলাদেশ ছাড়বে না? মানবিক কারণে ২০১৭ সালে যখন তাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, তখন আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিশ্রুতি ছিল দ্রুততম সময়ে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু দীর্ঘ ৯ বছর পার হলেও সেই প্রক্রিয়ায় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এর মাঝে পাহাড় কেটে এমন স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ কি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ীভাবে রেখে দেওয়ার কোনো প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত? স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন যে, বনাঞ্চল ধ্বংস করে এই স্থায়ী ঘরগুলো নির্মাণের ফলে পুরো অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। নির্বিচারে পাহাড় কাটার ফলে মাটির স্বাভাবিক বাঁধন আলগা হয়ে পড়ছে, যা বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি করছে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন যে, রোহিঙ্গাদের জন্য এই ধরণের আধুনিক ও স্থায়ী সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হলে তারা কখনোই তাদের বিধ্বস্ত মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যেতে উৎসাহিত হবে না। যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার কথা, সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের ভূখণ্ডে স্থায়ী অবকাঠামো উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় করাকে একটি আত্মঘাতী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এটি কেবল পরিবেশগত বিপর্যয়ই ডেকে আনছে না, বরং এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও এক বড় চ্যালেঞ্জ। বন বিভাগের সুস্পষ্ট অনুমতি ছাড়া কীভাবে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের শত শত একর পাহাড় কাটা সম্ভব হচ্ছে, সেই প্রশ্ন এখন স্থানীয় মহলে মুখে মুখে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই রহস্যময় অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি এখন বড় ধরণের জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। কক্সবাজারে পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের এই স্থায়ী ঘর নির্মাণ কি কেবল একটি সাধারণ আবাসন প্রকল্প, নাকি এর পেছনে বড় কোনো আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ রয়েছে তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। দেশের সচেতন মহলের দাবি, পরিবেশ ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার যেন দ্রুত এই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে দ্রুত প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরালো করে।

ট্যাগ:রোহিঙ্গা সংকট ২০২৬কক্সবাজার পাহাড় কাটাইউএনএইচসিআর স্থায়ী ঘররোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অনিশ্চয়তাপুশইন আতঙ্কস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
লিংক কপি হয়েছে!

ফটোকার্ড তৈরি করুন

বাংলাসেন্ট্রি

Preview
এই ছবিতে CORS সীমাবদ্ধতা থাকায় ডাউনলোডকৃত ফটোকার্ডে ছবি দেখা নাও যেতে পারে। ম্যানুয়ালি ছবি আপলোড করুন অথবা স্ক্রিনশট নিন।

BanglaSentryবাংলাদেশ সংবাদমাধ্যম
হোমঅনুসন্ধানআমাদের টিমকমিউনিটিনোটিফিকেশনঅ্যাকাউন্টআমাদের সম্পর্কেযোগাযোগগোপনীয়তা নীতিসেবার শর্তাবলী
ফেসবুকটেলিগ্রাম
বাংলা English العربية