
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সীমান্তে কঠোর নজরদারি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার (৬ মে ২০২৬) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের সমাপনী দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিজিবিকে এই নির্দেশনা প্রদান করেন। ভারতের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কোনো ধরণের ‘পুশইন’ বা অবৈধ অনুপ্রবেশ যাতে না ঘটে, সে লক্ষ্যে সীমান্ত বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর সীমান্তে বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। আমরা ইতোমধ্যেই বিজিবিকে নির্দেশ দিয়েছি যাতে তারা সব সময় প্রস্তুত থাকে। যদিও বড় ধরণের কোনো সংকটের সম্ভাবনা আমরা এখনই দেখছি না, তবুও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ দিনের অধিবেশনে রাজনৈতিক ও হয়রানিমূলক মামলা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিগত ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন স্থানে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করতে এক মাসের মধ্যে তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিসিদের কাছ থেকে তালিকা পাওয়ার পর প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, গণহত্যার মামলা বা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়গুলো আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাদক ও অনলাইন জুয়া বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, খুব শীঘ্রই মাদক ও ডিজিটাল অপরাধ দমনে নতুন এবং যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করা হবে। সীমান্তে নজরদারির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।