
জ্বালানি তেলের পর এবার গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আমলে নিয়েছে এবং এটি মূল্যায়নের জন্য একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ বুধবার ৬ মে ২০২৬ বিইআরসি সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা ৪ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে তা গড়ে ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। পিডিবির প্রস্তাব কার্যকর হলে পাইকারি দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। পাইকারি দাম বাড়লে এর সাথে সমন্বয় করে খুচরা পর্যায়েও আনুপাতিক হারে দাম বাড়ানো হবে। ইতোমধ্যে নেসকোসহ বেশ কয়েকটি বিতরণ সংস্থা খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর আবেদন জমা দিয়েছে। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন কারিগরি কমিটির মূল্যায়নের পর অংশীজনদের নিয়ে গণশুনানি করা হবে এবং এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পিডিবি বলছে দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিশাল ঘাটতি ও ভর্তুকির চাপ কমাতে এই মূল্যবৃদ্ধি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। দেড় টাকা বাড়লে পিডিবির বছরে বাড়তি আয় হবে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা। তবে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তার মতে মূল্যবৃদ্ধি কোনো টেকসই সমাধান নয় বরং বিদ্যুৎ খাতের অপ্রয়োজনীয় ৪০ শতাংশ বাড়তি খরচ কমিয়ে ভর্তুকির চাপ কমানো সম্ভব।
বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম ১৮ এপ্রিল বৃদ্ধির পর থেকেই বিদ্যুৎ খাতে এই অস্বস্তি শুরু হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ৭৫ ইউনিটের কম ব্যবহারকারী অর্থাৎ ৬৩ শতাংশ সাধারণ গ্রাহকের ওপর যাতে প্রভাব না পড়ে সেভাবে দাম সমন্বয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। মূলত ৩৮ শতাংশ উচ্চ ব্যবহারকারীদের ওপর বাড়তি বিলের বোঝা চাপতে পারে। ২০২৬ সালের এই অর্থনৈতিক চাপে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।