
বগুড়া সদর উপজেলার বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছ থেকে কাঁচা আম পেড়ে খাওয়ার অপরাধে তিন শিশুকে জুতার মালা পরিয়ে অপমানের ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। আজ মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) তদন্ত কমিটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং অভিযুক্ত শিক্ষকদের জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। আগামীকাল বুধবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের একটি গাছ থেকে কয়েকটি কাঁচা আম পাড়ে। এর জেরে পরদিন ২৯ এপ্রিল প্রধান শিক্ষক গোল সাহানারা বেগম ওই তিন শিশুকে অফিস কক্ষে ডেকে এনে নিষ্ঠুরভাবে বেত্রাঘাত করেন। এখানেই শেষ নয়, অন্য শিক্ষকদের সহযোগিতায় তিনি শিশুদের গলায় জুতার মালা এবং 'আমি আমচোর' লেখা কাগজ ঝুলিয়ে পুরো বিদ্যালয় চত্বর ঘোরান।
বগুড়া সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবীর জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দেননি। আজ তদন্ত দল সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পায়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বর্তমানে ছুটিতে আছেন এবং তিনি একাধিকবার ফোন করা সত্ত্বেও ধরেননি।
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তোপের মুখে পড়ে প্রধান শিক্ষক একবার মৌখিকভাবে ক্ষমা চাইলেও অভিভাবকরা তার স্থায়ী অপসারণ ও কঠোর শাস্তির দাবিতে অনড়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান হোসেন জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনে সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় মামলার সুপারিশ করা হবে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কোমলমতি শিশুদের ওপর এ ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন তাদের দীর্ঘমেয়াদী ট্রমার কারণ হতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, অপরাধী যেই হোক না কেন, শিশুদের সম্মানহানি ও নির্যাতনের দায়ে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আগামীর শিক্ষা ব্যবস্থায় এ ধরনের কুপ্রথা বন্ধে এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।