
প্রকৃতি ও প্রাণীবিজ্ঞানীদের জন্য এক অবিশ্বাস্য সুখবর নিয়ে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা। গত ৫০ বছর ধরে যে সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী 'ডুগং'কে বিলুপ্ত বলে ধারণা করা হচ্ছিল, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্র উপকূলে পুনরায় তাদের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিরল এই সামুদ্রিক প্রাণীর ফিরে আসা জলবায়ু পরিবর্তন এবং সমুদ্রের বাস্তুসংস্থান রক্ষায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সামুদ্রিক এই প্রাণীটি মূলত সমুদ্রের তলদেশের ঘাস খেয়ে বেঁচে থাকে, যা সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিজ্ঞানীরা গত কয়েক মাস ধরে ড্রোন এবং আন্ডারওয়াটার সেন্সর ব্যবহার করে এই বিশেষ প্রজাতির প্রাণীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। গবেষণায় দেখা গেছে, উপকূলীয় অঞ্চলে সংরক্ষিত কিছু এলাকায় ডুগংদের একটি ছোট দল শান্তিতে বসবাস করছে। মানুষের হস্তক্ষেপ কমে যাওয়ায় এবং সমুদ্রের ওই নির্দিষ্ট অংশে ঘাস বা 'সি-গ্রাস' (Sea-grass) পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রাণীগুলো সেখানে ফিরে এসেছে। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, যথাযথ উদ্যোগ নিলে বিলুপ্তপ্রায় অনেক প্রাণীকেই পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
ডুগংদের অস্তিত্ব থাকা মানেই হলো সেই অঞ্চলের সমুদ্রের পানি পরিষ্কার এবং বাস্তুসংস্থান সুস্থ রয়েছে। এরা সামুদ্রিক ঘাসের বন পরিষ্কার রাখে, যার ফলে ছোট ছোট মাছ এবং অন্যান্য প্রাণীর বংশবৃদ্ধি সহজ হয়। এই প্রাণীটিকে ফিরিয়ে আনা শুধু জীববৈচিত্র্যের জন্যই নয়, বরং উপকূলীয় মৎস্য সম্পদের উন্নয়নের জন্যও জরুরি। তবে চোরাকারবারী এবং প্লাস্টিক দূষণের হাত থেকে তাদের রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই রোমাঞ্চকর খবরটি পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার এবং আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (IUCN) ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলকে 'সংরক্ষিত এলাকা' হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছে। বিজ্ঞানীদের মতে, ডুগংদের এই প্রত্যাবর্তন প্রকৃতির একটি বড় উপহার। এখন যদি এই প্রাণীদের নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র নিশ্চিত করা যায়, তবে আগামী এক দশকের মধ্যে এদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।