হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার করে দিতে এবার সামরিক পাহারার (এসকর্ট) কথা ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরানের প্রভাব কমাতে এবং বাণিজ্যিক প্রবাহ সচল রাখতে এই উদ্যোগ বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প কৌশল
সোফান সেন্টারের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কেনেথ কাটজম্যানের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে সরাসরি কোনো যুদ্ধ শুরু না করেই ইরানের সাথে চলমান অচলাবস্থার সমাধান খুঁজছেন। কাটজম্যান মনে করেন, যদি তেহরানের পক্ষ থেকে ইতিবাচক কোনো সাড়া না পাওয়া যায়, তবে ট্রাম্প বাণিজ্যিক ট্যাংকারগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার এসকর্ট মিশন শুরু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সুরক্ষা ও ইরানের ওপর চাপ
এই এসকর্ট মিশনের ফলে বিশেষ করে উপসাগরীয় আরব দেশসমূহ এবং ইরাকের মতো মার্কিন মিত্র রাষ্ট্রগুলো উপকৃত হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে এই প্রক্রিয়ার মধ্যেও ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ আগের মতোই কঠোরভাবে বহাল থাকবে। কেনেথ কাটজম্যান সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি এই পাহারারত কোনো জাহাজে হামলা চালানোর ভুল করে, তবে আলোচনার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে এবং ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর সামরিক বিকল্প বেছে নেবেন।
দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এই দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই সুবিধাজনক হবে। কারণ সমুদ্রপথে জ্বালানি বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ইরান তাদের তেল উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারে, যা দেশটির সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করবে। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও ইরানের জন্য এর পরিণতি হবে অনেক বেশি ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও নৌ-অবরোধের চিত্র
পেন্টাগনের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন নৌ-অবরোধের ফলে ইরান ইতিমধেই ৪.৮ বিলিয়ন থেকে ৬ বিলিয়ন ডলারের তেল রাজস্ব হারিয়েছে। এই আর্থিক ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়েও তেহরান তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো আশঙ্কা করছে যে, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন এসকর্ট মিশন শুরু হলে ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এই রুটটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।
