দক্ষিণ চীন সাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক শক্তি প্রদর্শনে মেতেছে বিশ্বের দুই প্রধান পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। গত ৪৮ ঘণ্টায় উভয় দেশই এই অঞ্চলে বিশাল নৌ-মহড়া শুরু করেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তাইওয়ান প্রণালীতে চীনের ‘অবরোধ’ মহড়া
বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি তাদের নিয়মিত সামরিক মহড়ার অংশ। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তাইওয়ানকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলার এই মহড়া মূলত ওয়াশিংটনকে একটি সতর্কবার্তা দেওয়া। চীনের অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরী এবং হাইপারসনিক মিসাইল সজ্জিত ডেস্ট্রয়ারগুলো এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানও এই পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন করে সংঘাতের শঙ্কা প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের পাল্টা অবস্থান ও কিউবা প্রসঙ্গ
চীনের এই সামরিক তৎপরতার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া যৌথভাবে ‘প্যাসিফিক শিল্ড’ নামে পাল্টা মহড়া শুরু করেছে। পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে ‘মুক্ত ও অবাধ’ রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরী অবস্থান করছে। এরই মধ্যে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন চাঞ্চল্য তৈরি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প; তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরান থেকে ফেরার পথে কিউবা দখলের পরিকল্পনাও তার এজেন্ডায় থাকতে পারে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতি ও সেমিকন্ডাক্টর বাজারে প্রভাব
এই সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ার বাজারে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ শিল্পের প্রাণকেন্দ্র তাইওয়ানের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দাম কমতে শুরু করেছে। যদি এই সমুদ্রপথটি দীর্ঘ সময়ের জন্য অবরুদ্ধ থাকে, তবে স্মার্টফোন, অটোমোবাইল এবং এআই হার্ডওয়্যার শিল্পে এক ভয়াবহ সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা। এদিকে চীন সম্প্রতি বিশাল তেল ও গ্যাস মজুত আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়ে জ্বালানি বিপ্লবের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের দাবি করেছে, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে তাদের অবস্থান আরও শক্ত করতে পারে।
জাতিসংঘের উদ্বেগ ও শান্তির আহ্বান
জাতিসংঘের মহাসচিব এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং উভয় পক্ষকে চরম ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সামান্য ভুল বোঝাবুঝি থেকে একটি বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য যে, এই অস্থিরতার মধ্যেই জামায়াত আমির ৭ দিনের সফরে জাপান গিয়েছেন এবং বিশ্বশান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
.jpg)