বান্দরবানের লামা উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মসজিদের জায়গা জোরপূর্বক দখল করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন মেম্বারের ভাই আবেদ আলী এই জবরদখলের সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। শুধু জায়গা দখলই নয়, সেখানে দোকানঘর নির্মাণ করে গত ১০ বছর ধরে ভাড়ার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি।
রেকর্ডভুক্ত জমি দখলের নেপথ্যে দলীয় প্রভাব
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি গোলজার হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ২৯৪ নং দরদরী মৌজার আর/১৫৯১ নং হোল্ডিং মূলে ৩ একর ৩৫ শতক জায়গা রূপসীপাড়া বাজার জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটির নামে রেকর্ডভুক্ত আছে। ১৯৮১-৮২ সনের বন্দোবস্ত মূলে প্রাপ্ত এই জায়গার নিয়মিত খাজনাও পরিশোধ করে আসছে কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবুল হোসেন মেম্বারের ভাই হওয়ায় মো. আবেদ আলী প্রভাব খাটিয়ে মসজিদের ১০ শতক জায়গা দখল করে নেন।
দোকান নির্মাণ ও ভাড়া আত্মসাৎ
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিরোধীয় জায়গার ওপর একটি গ্যারেজ ও একটি চা দোকান রয়েছে। জবরদখল করা জায়গায় তিনটি দোকানঘর নির্মাণ করে একটিতে আবেদ আলী নিজে ব্যবসা করছেন এবং বাকি দুটি ভাড়া দিয়েছেন। ১৩ বছর ধরে সেখানে দোকান চালানো এক ভাড়াটিয়া জানান, তিনি প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা হারে আবেদ আলীকে ভাড়া প্রদান করেন, যদিও জায়গাটি কার তা তিনি জানেন না।
মামলা ও হামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি
মসজিদ কমিটির বর্তমান ও সাবেক সভাপতিদের অভিযোগ, মসজিদের জায়গা ছেড়ে দিতে বারবার বলা হলেও আবেদ আলী তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। উল্টো কমিটির সদস্যদের বিভিন্ন মামলা ও হামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে মসজিদের উন্নয়নকাজ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এক নজরে অভিযোগের চিত্র:
- দখলকৃত জমির পরিমাণ: ১০ শতক।
- অভিযুক্ত ব্যক্তি: আবেদ আলী (আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হোসেনের ভাই)।
- দখলের মেয়াদ: ১০ বছরের বেশি সময়।
- বর্তমান অবস্থা: তিনটি দোকান নির্মাণ করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবেদ আলী অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, জায়গাটি তাঁর ক্রয়কৃত এবং এর বৈধ দলিলপত্র তাঁর কাছে রয়েছে। তবে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মঈন উদ্দিন জানিয়েছেন, জবরদখলের বিষয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মসজিদ ও মাদ্রাসার জায়গা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
"আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে প্রতিবাদ করেও এই জায়গা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আমরা প্রশাসনের কাছে মসজিদের এই পবিত্র ভূমি পুনরুদ্ধারের দাবি জানাই।"
— আব্দুস সাত্তার ফরাজি, সাবেক সভাপতি, মসজিদ পরিচালনা কমিটি।
উল্লেখ্য যে, স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে মসজিদের জমি ফিরিয়ে দিয়ে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন।
