ময়মনসিংহ নগরীর অন্যতম প্রধান বিনোদন কেন্দ্র জয়নুল আবেদীন পার্কে শুক্রবার (১ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। পার্কে থাকা একটি নাগরদোলা চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ ভেঙে পড়লে শিশুসহ অন্তত ১০ জন দর্শনার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। পহেলা মে ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পার্কে উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে নাগরদোলাটি যখন পূর্ণ গতিতে চলছিল, তখন হঠাৎ একটি বিকট শব্দ হয় এবং এর একটি বগি বা আসন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে। এতে নাগরদোলায় থাকা আরোহীরা ছিটকে পড়েন। দুর্ঘটনার পরপরই পার্কে উপস্থিত সাধারণ মানুষ এবং স্বেচ্ছাসেবীরা দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
আহতদের অবস্থা ও চিকিৎসা
আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের হাড় ভেঙে গেছে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার কারণে ২-৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ:
- যান্ত্রিক ত্রুটি: নাগরদোলাটি দীর্ঘদিনের পুরনো এবং জরাজীর্ণ ছিল বলে অভিযোগ দর্শনার্থীদের।
- অতিরিক্ত যাত্রী: ছুটির দিনের ভিড় সামলাতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী তোলা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- রক্ষণাবেক্ষণের অভাব: পার্কের রাইডগুলোর নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা না করা।
দর্শনার্থীদের ক্ষোভ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
পার্কে আসা দর্শনার্থীরা রাইডগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের এই পার্কে প্রতিদিন হাজারো মানুষের সমাগম হলেও রাইডগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসন পার্কের অন্যান্য রাইডগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।
"আমরা পরিবার নিয়ে আনন্দ করতে এসেছিলাম, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই সব চিৎকার আর রক্তে ভেসে গেল। এই দায় কার? পার্ক কর্তৃপক্ষের অবহেলার বিচার চাই।"
— একজন প্রত্যক্ষদর্শী।
ময়মনসিংহ সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যদি পার্ক কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
