BanglaSentryবাংলাদেশ সংবাদমাধ্যম
সব
সারা দেশ
রাজনীতি
আন্তর্জাতিক
বাণিজ্য
খেলাধুলা
বিনোদন
প্রযুক্তি
পরিবেশ
অপরাধ
শিক্ষা
স্বাস্থ্য
কৃষি
বিশ্লেষণ
মতামত
বাংলার গল্প
জ্ঞানকোষ
অন্যান্য

ইতালিতে বড় ভাইয়ের হাতে ভাই খুন: পরকীয়া ও আর্থিক দ্বন্দ্বের জেরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড

Hasibul Hasan
Hasibul Hasan অপরাধ
01 May 2026, 04:42 PM
ইতালিতে বড় ভাইয়ের হাতে ভাই খুন: পরকীয়া ও আর্থিক দ্বন্দ্বের জেরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড

ইতালির লেইজ শহরে বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরের হাতে ছোট ভাই নয়ন ফকির (৩০) খুনের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। বিদেশের মাটিতে এই হত্যাকাণ্ডের মূলে রয়েছে বড় ভাইয়ের পরকীয়া, দ্বিতীয় বিয়ে এবং দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধ। এই পৈশাচিক ঘটনার পর নিহতের গ্রাম মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারংয়ে বইছে শোকের মাতম।

পরকীয়া ও গোপন বিয়ের জটিল সমীকরণ

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘাতক হুমায়ুন ফকিরের প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন থাকা সত্ত্বেও তিনি তার চাচাতো বোন তায়েবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। তিন বছর আগে আমেনাকে টেলিফোনে বিয়ে করলেও, দুই বছর আগে দেশে এসে পরিবারের অমতে গোপনে তায়েবাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন হুমায়ুন। এই বিয়ে হুমায়ুনের মা-বাবা ও ছোট ভাই নয়ন মেনে না নেওয়ায় পরিবারের মধ্যে চরম কলহ সৃষ্টি হয়। এমনকি দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে তোলার জেরে হুমায়ুনের বাবা দেলোয়ার হোসেন ওই ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন, যা হুমায়ুনকে প্রতিহিংসাপরায়ণ করে তোলে।

আর্থিক দ্বন্দ্ব ও ১৬ লাখ টাকার হিসাব

অভিযোগ উঠেছে, ছোট ভাই নয়নকে ইতালি নিতে হুমায়ুন ১৩ লাখ টাকা খরচ করলেও নয়ন তাকে বিভিন্ন সময়ে ২০ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও হুমায়ুন দাবি করেন যে, মা-বাবার ভরণপোষণ বাবদ তিনি যে ১৬ লাখ টাকা খরচ করেছেন, তার অর্ধেক অর্থাৎ ৮ লাখ টাকা নয়নকে দিতে হবে। নয়ন এই টাকা দিতে রাজি হওয়া সত্ত্বেও হুমায়ুন পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে পরিবারের দাবি।

হত্যাকাণ্ডের নৃশংস বিবরণ

গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইতালির সময় বিকেল ৫টায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় নয়ন তার বড় ভাই হুমায়ুনের বাড়ির নিচে বৈদ্যুতিক সাইকেল চার্জ দিতে গিয়েছিলেন। নয়ন যখন প্লাগ লাগানোর জন্য নিচু হন, তখন আগে থেকে ওত পেতে থাকা হুমায়ুন পেছন থেকে ধারালো ছুরি দিয়ে নয়নের পিঠে ও মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। হত্যার পর হুমায়ুন ভিডিও কলের মাধ্যমে মরদেহ দেশে থাকা মা-বাবাকে দেখান, যা পুরো পরিবারকে স্তব্ধ করে দেয়।

পরিবারের আহাজারি ও বিচারের দাবি

নিহত নয়ন ও ঘাতক হুমায়ুনের একমাত্র বোন দিলারা আক্তার তার বড় ভাইয়ের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ফাঁসি দাবি করেছেন। অন্যদিকে, হুমায়ুনের প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন অভিযোগ করেছেন যে, হুমায়ুন তাকে নিয়মিত মানসিক নির্যাতন করতেন এবং ঠিকমতো ভরণপোষণ দিতেন না। বর্তমানে অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকির ইতালি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

"আমার ভাই নয়ন টাকা দিতে রাজি হয়েছিল, তাও হুমায়ুন তাকে বাঁচতে দিল না। আমরা এই খুনি ভাইয়ের ফাঁসি চাই।"
দিলারা আক্তার, নিহত নয়নের বোন।

এই ঘটনায় পুরো টঙ্গীবাড়ী এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা ঘাতক হুমায়ুনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নয়নের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন:
সব খবরে ফিরুন
লিংক কপি হয়েছে!

ফটোকার্ড তৈরি করুন

বাংলাসেন্ট্রি

Preview
এই ছবিতে CORS সীমাবদ্ধতা থাকায় ডাউনলোডকৃত ফটোকার্ডে ছবি দেখা নাও যেতে পারে। ম্যানুয়ালি ছবি আপলোড করুন অথবা স্ক্রিনশট নিন।

BanglaSentryবাংলাদেশ সংবাদমাধ্যম
হোমঅনুসন্ধানকমিউনিটিনোটিফিকেশনঅ্যাকাউন্টআমাদের সম্পর্কেযোগাযোগগোপনীয়তা নীতিসেবার শর্তাবলী
বাংলা English العربية