আজ শুক্রবার, ঐতিহাসিক মহান মে দিবস। ১৮৮৬ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে আট ঘণ্টা কাজের সময় নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন শ্রমিকেরা। তাঁদের সেই আত্মদানের স্মৃতিতে বিশ্বজুড়ে দিনটি পালিত হলেও বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮৬ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন।
কর্মক্ষেত্রে মৃত্যুর পরিসংখ্যান ও খাতভিত্তিক চিত্র
বিলসের সংবাদপত্রভিত্তিক জরিপ থেকে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে নিহত ১৮৬ শ্রমিকের মধ্যে ১৮৫ জনই পুরুষ এবং ১ জন নারী। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে পরিবহন খাতে।
- পরিবহন খাত: সর্বোচ্চ ১০৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এই খাতে।
- কৃষি ও নির্মাণ: কৃষিতে ১৯ জন এবং নির্মাণ খাতে ১৪ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন।
- অন্যান্য: প্রবাসী শ্রমিক ১১ জন, দিনমজুর ১১ জন, মৎস্য খাতে ৯ জন এবং বিদ্যুৎ খাতে ৬ জন নিহত হয়েছেন।
একই সময়ে আহত হয়েছেন ৩৩৫ জন শ্রমিক, যার মধ্যে পোশাক খাতে আহতের সংখ্যা সর্বোচ্চ ২৫০ জন।
প্রধানমন্ত্রীর বাণী ও অঙ্গীকার
মহান মে দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় বাণী দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, শ্রমজীবী মানুষই দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রধান অবলম্বন। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানতম অঙ্গীকার।
রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের কর্মসূচি
দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে:
- বিএনপি: আজ দুপুর ২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে শ্রমিক সমাবেশ করবে দলটি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
- বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন: দুপুর ৩টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সমাবেশ করবে তারা। প্রধান অতিথি থাকবেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
- ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন: সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে সমাবেশ করবে। এতে বক্তব্য দেবেন সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম।
- জাতীয় শ্রমিক শক্তি: বিকাল ৩টায় শাহবাগে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
"শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি। সুতরাং তাঁদের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।"
— তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালেও কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার চিত্র ছিল উদ্বেগজনক। গত বছর মোট ৭৩৫ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন, যার মধ্যে ৪৩৯ জনই ছিলেন পরিবহন খাতের। শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও কর্মক্ষেত্রে এই মৃত্যুমিছিল বন্ধ না হওয়া শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
