রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় সরকারি কর্মসূচির 'ফ্যামিলি কার্ড' পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা এনামুল হককে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এনামুল হক মিঠাপুকুর উপজেলার ভাংনি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে এই অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগের ধরণ
ভুক্তভোগী গৃহবধূর অভিযোগ অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ করার পুরস্কার হিসেবে এবং দুস্থ পরিবারকে সহায়তার লক্ষ্যে সরকারি 'ফ্যামিলি কার্ড' দেওয়ার কথা বলে তাকে ডেকে আনেন এনামুল হক। গত কয়েকদিন আগে কৌশলে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে এবং থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
দলীয় পদক্ষেপ ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রংপুর জেলা ও মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপি তাৎক্ষণিক জরুরি সভায় মিলিত হয়। সভায় নেতৃবৃন্দ একমত হন যে, এনামুল হকের এই কর্মকাণ্ড দলের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী। এরপরই এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে ভাংনি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। দল থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হলে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।
ঘটনার উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:
- অভিযুক্তের পরিচয়: এনামুল হক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ভাংনি ইউনিয়ন বিএনপি।
- অভিযোগের কারণ: সরকারি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে গৃহবধূকে ধর্ষণ।
- প্রলোভন: নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার উপহার হিসেবে কার্ড দেওয়ার আশ্বাস।
- শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি এবং আইনি প্রক্রিয়ার সম্মুখীন।
পুলিশি তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি
মিঠাপুকুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূর পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর তারা তদন্ত শুরু করেছেন। অভিযুক্ত এনামুল হক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।
"বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল দল। কোনো ব্যক্তিগত অপরাধের দায়ভার দল নেবে না। অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা পুলিশের তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতা করছি।"
— মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার ঘোষিত 'ফ্যামিলি কার্ড' কার্যক্রমকে বিতর্কিত করতে এবং সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এমন অনৈতিক কাজকে স্থানীয় সচেতন মহল 'অত্যন্ত জঘন্য' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তারা মনে করছেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে এমন সামাজিক অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।
