BanglaSentryবাংলাদেশ সংবাদমাধ্যম
সব
সারা দেশ
রাজনীতি
আন্তর্জাতিক
বাণিজ্য
খেলাধুলা
বিনোদন
প্রযুক্তি
পরিবেশ
অপরাধ
শিক্ষা
স্বাস্থ্য
কৃষি
বিশ্লেষণ
মতামত
বাংলার গল্প
জ্ঞানকোষ
অন্যান্য

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু: ৬০ বছরের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ যাত্রায় বাংলাদেশ

Hasibul Hasan
Hasibul Hasan সারা দেশ
28 April 2026, 06:30 AM
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু: ৬০ বছরের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ যাত্রায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপ শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল, ২০২৬), পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (RNPP) প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরেনিয়াম জ্বালানি (Nuclear Fuel) লোডিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি দেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যা বাংলাদেশকে বিশ্বের পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর অভিজাত ক্লাবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করল।

৬০ বছরের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও দীর্ঘস্থায়ী লক্ষ্য

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে এটি একটানা ৬০ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে। উন্নত রক্ষণাবেক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এই মেয়াদ আরও ২০ থেকে ৩০ বছর বাড়ানো সম্ভব। কয়লা, তেল বা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং দীর্ঘমেয়াদী। এই কেন্দ্রটি চালু হওয়ার ফলে আমদানিকৃত ব্যয়বহুল ফসিল ফুয়েল বা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে এলএনজি (LNG) বা জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা দেশের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে আর বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

কবে থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ মিলবে?

আজ জ্বালানি লোডিং শুরু হলেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ পেতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব জানিয়েছেন, জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর বিভিন্ন কারিগরি ও সুরক্ষা পরীক্ষা শেষে আগামী জুলাই মাসের শেষ দিকে বা আগস্টের শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।

উৎপাদন সক্ষমতা ও কর্মপরিকল্পনা:

  • প্রথম পর্যায়: প্রাথমিক অবস্থায় প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।
  • পূর্ণ সক্ষমতা: ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে আগামী জানুয়ারি ২০২৭ সালের মধ্যে প্রথম ইউনিটটি পূর্ণ ১২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতায় পৌঁছাবে।
  • দ্বিতীয় ইউনিট: রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি লোডিং চলতি বছরের শেষের দিকে শুরু হতে পারে এবং এটি ২০২৮ সালের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হবে সম্পূর্ণ কার্বন নিঃসরণমুক্ত বা 'জিরো এমিশন' একটি প্রকল্প। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এটি বাংলাদেশের জন্য এক বড় অর্জন। এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পাওয়া বিদ্যুতের দাম তুলনামূলক সাশ্রয়ী হবে। যদিও বর্তমানে ডলারের বিনিময় হার এবং নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নিয়ে কিছুটা আলোচনা রয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করবে।

নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও আইএইএ (IAEA) পর্যবেক্ষণ

এই বিশাল প্রকল্পের নিরাপত্তায় কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন 'রোসাটম' (Rosatom) এর তত্ত্বাবধানে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) এর কড়া নির্দেশনায় কেন্দ্রটি পরিচালিত হচ্ছে। রিয়্যাক্টরের ভেতরে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম ফুয়েল বান্ডেল স্থাপন করার পর কয়েক স্তরের সুরক্ষা পরীক্ষা চালানো হবে। রাশিয়ার কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন যাতে কোনো ধরনের তেজস্ক্রিয়তা বা কারিগরি ত্রুটি না ঘটে।

"আজকের এই জ্বালানি লোডিং কেবল একটি প্রকল্পের অগ্রগতি নয়, এটি আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। রূপপুর থেকে আমরা যে ৬০ বছরের বিদ্যুতের গ্যারান্টি পাচ্ছি, তা দেশের প্রতিটি শিল্পকারখানা এবং ঘরে ঘরে উন্নয়নের আলো পৌঁছে দেবে।"
প্রকল্প পরিচালক, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

এসইও কীওয়ার্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • প্রকল্পের মোট ক্ষমতা: ২৪০০ মেগাওয়াট (১২০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট)।
  • নির্মাণ ব্যয়: প্রায় ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা (সংশোধিত)।
  • জ্বালানি সরবরাহকারী: রাশিয়া।
  • লোডিং শুরুর তারিখ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬।

পরিশেষে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হওয়া বাংলাদেশের জন্য শুধু বিদ্যুতের অভাব দূর করা নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি এবং উচ্চশিক্ষিত জনশক্তি তৈরির এক বিশাল সুযোগ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে দেশে আরও পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে সহায়ক হবে। পুরো জাতির দৃষ্টি এখন জুলাই মাসের দিকে, যখন রূপপুরের পরমাণু থেকে প্রথম আলোর ঝলকানি দেখা যাবে জাতীয় গ্রিডে।

শেয়ার করুন:
সব খবরে ফিরুন
লিংক কপি হয়েছে!

ফটোকার্ড তৈরি করুন

বাংলাসেন্ট্রি

Preview
এই ছবিতে CORS সীমাবদ্ধতা থাকায় ডাউনলোডকৃত ফটোকার্ডে ছবি দেখা নাও যেতে পারে। ম্যানুয়ালি ছবি আপলোড করুন অথবা স্ক্রিনশট নিন।

BanglaSentryবাংলাদেশ সংবাদমাধ্যম
হোমঅনুসন্ধানকমিউনিটিনোটিফিকেশনঅ্যাকাউন্টআমাদের সম্পর্কেযোগাযোগগোপনীয়তা নীতিসেবার শর্তাবলী
বাংলা English العربية