বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতির মধ্যে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে একটি গোপন বৈঠকের খবর ও ছবি প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও সেই সময় ছবি তুলতে নিষেধ করা হয়েছিল, তবুও বর্তমানে সেই মুহূর্তের কিছু দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
গোপন বৈঠকের প্রেক্ষাপট ও স্থান
বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার একটি অজ্ঞাত স্থানে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন রাজনৈতিক উত্তাপ এবং সরকার বিরোধী আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণের উদ্দেশ্যেই এই সাক্ষাতটি হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ছাত্রদল সভাপতি রাকিব অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং উপস্থিত কাউকে ছবি তুলতে বা ভিডিও করতে কড়াভাবে নিষেধ করেছিলেন।
বর্তমান উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
সম্প্রতি ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার মাঝেই এই পুরনো ছবি বা তথ্য নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল যখন শিবিরকে 'গোপন ও নিষিদ্ধ সংগঠন' হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে, তখন শিবিরের সমর্থকরা এই পুরনো সাক্ষাতের বিষয়টি সামনে এনে ছাত্রদলের অবস্থানের বৈপরীত্য তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
- বৈঠকের সময়: এপ্রিল ২০২৪ (তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমল)।
- সতর্কতা: ছবি তোলায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ছবি ফাঁসের দাবি।
- বর্তমান প্রতিক্রিয়া: ছাত্রদল সভাপতি একে 'অপপ্রচার' বলে অভিহিত করেছেন এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন।
ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, বিভিন্ন ভুয়া আইডি বা সোশ্যাল মিডিয়া বট ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর থেকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ছাত্রদলকে বিতর্কিত করার জন্য পুরনো বা বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে।
"আমরা সবসময় স্বচ্ছ রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আমাদের বিরুদ্ধে যা ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যারা গোপনে মব তৈরি করে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের সময়মতো জবাব দেওয়া হবে।"
— রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সভাপতি, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
অন্যদিকে, শিবিরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সাক্ষাতের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা না হলেও, তাদের নেতাকর্মীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করছেন যে ঐক্যের স্বার্থে সেই সময়ে অনেক শীর্ষ নেতাই গোপন বৈঠক করেছিলেন যা এখন অস্বীকার করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর এমন কোন্দলে ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ যেন বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে তারা কড়া নজর রাখছে।
