BanglaSentryবাংলাদেশ সংবাদমাধ্যম
সব
সারা দেশ
রাজনীতি
আন্তর্জাতিক
বাণিজ্য
খেলাধুলা
বিনোদন
প্রযুক্তি
পরিবেশ
অপরাধ
শিক্ষা
স্বাস্থ্য
কৃষি
বিশ্লেষণ
মতামত
বাংলার গল্প
জ্ঞানকোষ
অন্যান্য

কুমিল্লা পলিটেকনিকে ছাত্রদল-শিবির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, সভাপতি-সেক্রেটারিসহ আহত ১০

Hasibul Hasan
Hasibul Hasan রাজনীতি
23 April 2026, 05:11 PM
কুমিল্লা পলিটেকনিকে ছাত্রদল-শিবির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, সভাপতি-সেক্রেটারিসহ আহত ১০

কুমিল্লা: দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান ছাত্র সংঘাতের ধারাবাহিকতায় এবার কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ক্যাম্পাস অভ্যন্তরে এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পলিটেকনিক শাখা শিবিরের সভাপতি ও সেক্রেটারিও রয়েছেন।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ঘটনার জেরে দেশব্যাপী ছাত্রদলের গ্রাফিতি কর্মসূচি ও ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে উত্তেজনার রেশ ধরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বিকেলে নাফিস আব্দুল্লাহ নামে এক শিক্ষার্থীকে ‘গুপ্ত শিবির’ বলে গালি দেওয়া ও থাপ্পড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বিচারের দাবিতে অবস্থান নেয় ছাত্রশিবির। সেখানে আলোচনার এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

  • থাপ্পড় কাণ্ড: বিকেল ৪টার দিকে নাফিস আব্দুল্লাহ নামে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে ছাত্রদল কর্মীদের বিরুদ্ধে। শিবিরের দাবি, গ্রাফিতি কর্মসূচির জেরে তাকে ‘গুপ্ত শিবির’ আখ্যা দিয়ে হেনস্তা করা হয়েছে।
  • অধ্যক্ষের কক্ষ ও কমিটি: মারধরের বিচারের জন্য ছাত্রশিবির নেতারা অধ্যক্ষের কক্ষে গেলে তিনি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেন। কিন্তু তাৎক্ষণিক বিচার ও মারধরের ভিডিও ফুটেজ দাবি নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
  • আহতদের পরিচয়: হামলায় কুমিল্লা পলিটেকনিক্যাল ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং সেক্রেটারি গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত কয়েকজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
"সারাদেশে ছাত্রদলের 'গুপ্ত' লেখার কর্মসূচি চলছিল। এই সময় আমাদের কর্মী নাফিসকে মারধর করা হয়। অধ্যক্ষের কাছে বিচার ও ভিডিও ফুটেজ চাইতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।" — হাসান আহমেদ, সভাপতি, কুমিল্লা মহানগর ছাত্রশিবির

কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের বক্তব্য

  1. অধ্যক্ষের বক্তব্য: কুমিল্লা পলিটেকনিক্যালের অধ্যক্ষ মাজারুল ইসলাম জানান, সেখানে সরাসরি কোনো সংগঠনের স্লোগান ছিল না। মূলত বিকেলে একজনকে থাপ্পড় মারাকে কেন্দ্র করেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ ঘটে। তদন্ত কমিটির কাজ শুরু হওয়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
  2. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি: কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার (ওসি তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে। তবে সংঘর্ষে কতজন আহত হয়েছেন তা যাচাই করা হচ্ছে।
  3. ছাত্রদলের দাবি: কুমিল্লা পলিটেকনিক্যাল ছাত্রদলের সভাপতি ইমন আহমেদ অবশ্য রাজনৈতিক হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যকার কথা কাটাকাটি ও হলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকে সৃষ্টি হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে গ্রাফিতিতে ‘ছাত্র’ মুছে ‘গুপ্ত’ লেখার পর থেকে দেশজুড়ে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে, কুমিল্লার এই ঘটনা তাকে আরও উসকে দিয়েছে। ক্যাম্পাসে এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সতর্কবার্তা: অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পলিটেকনিক ক্যাম্পাসে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


প্রতিবেদক: কুমিল্লা প্রতিনিধি | প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ (রাত ১০:২৫) তথ্যসূত্র: কুমিল্লা পলিটেকনিক প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ

শেয়ার করুন:
সব খবরে ফিরুন
লিংক কপি হয়েছে!

ফটোকার্ড তৈরি করুন

বাংলাসেন্ট্রি

Preview
এই ছবিতে CORS সীমাবদ্ধতা থাকায় ডাউনলোডকৃত ফটোকার্ডে ছবি দেখা নাও যেতে পারে। ম্যানুয়ালি ছবি আপলোড করুন অথবা স্ক্রিনশট নিন।

BanglaSentryবাংলাদেশ সংবাদমাধ্যম
হোমঅনুসন্ধানকমিউনিটিনোটিফিকেশনঅ্যাকাউন্টআমাদের সম্পর্কেযোগাযোগগোপনীয়তা নীতিসেবার শর্তাবলী
বাংলা English العربية