ঈশ্বরদী (পাবনা): পাবনার ঈশ্বরদীতে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জেরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর থেকে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই সংগঠনের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আজ দুপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষের কারণ ও আহতের বিবরণ
- ঘটনার সূত্রপাত: প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কলেজের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। সেখান থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।
- আহতদের অবস্থা: সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
- ভাঙচুর: সংঘর্ষ চলাকালে সড়কের পাশে থাকা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও একটি অস্থায়ী অফিস ভাঙচুরের শিকার হয়েছে।
"ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে একটি পক্ষ উস্কানি দিচ্ছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।" — স্থানীয় ছাত্রনেতা
প্রশাসনের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
- পুলিশি অ্যাকশন: খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
- তদন্ত: পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। তবে এখনো কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
- নিরাপত্তা ব্যবস্থা: সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক উত্তেজনা ও স্থানীয়দের উদ্বেগ
জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে ঈশ্বরদীর এই ঘটনাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর এই সংঘাত সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা অবিলম্বে রাজনৈতিক সহাবস্থান ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
সতর্কবার্তা: ঈশ্বরদী থানা পুলিশ জনগণকে গুজবে কান না দেওয়ার এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রতিবেদক: পাবনা জেলা প্রতিনিধি | প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ তথ্যসূত্র: স্টার নিউজ ও স্থানীয় প্রশাসন
