নোয়াখালী: প্রিয় প্রার্থীর বিজয়ে রাজপথে মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন হাতিয়ার সাধারণ জেলে রাকিব। কিন্তু সেই আনন্দ মিছিলই তার জীবনের ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়। টানা কয়েক মাস হাসপাতালের শয্যায় মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চার সন্তানের জনক এই খেটে খাওয়া মানুষটি। তার এই মৃত্যুতে স্থানীয়দের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অপূর্ণ আক্ষেপ
- মিছিলে অসুস্থতা: নির্বাচনের দিন রাতে বিজয়ী প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদের মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় হার্ট অ্যাটাক করেন রাকিব। এরপর তাকে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
- শেষ অনুরোধ: হাসপাতালে থাকা অবস্থায় রাকিবের একটিই আক্ষেপ ছিল— প্রিয় এমপি সাহেব যেন তাকে একবার দেখতে আসেন। রাকিবের বিশ্বাস ছিল, এমপি কথা বললে তার হার্ট অপারেশন দ্রুত হবে।
- সাক্ষাৎ ও অপেক্ষা: এমনকি ঈদের সময় বাড়ি গিয়ে তিনি এমপির সাথে দেখা করে হাসপাতালে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু বারবার আশ্বাসের পরেও শেষ সময়ে প্রিয় নেতাকে পাশে পাননি তিনি।
"এমপি সাহেব, একবার হাসপাতালে আসবেন— এই অনুরোধ করতে করতেই রাকিব চলে গেল। যারা নিঃস্বার্থভাবে নেতার জন্য কাজ করে, তারা টাকা চায় না, শুধু বিপদে একটু খোঁজখবর চায়। রাকিবের সেই ছোট আশাটাও পূরণ হলো না।" - স্থানীয় একজন সংবাদকর্মী
এমপি হান্নান মাসউদের দুঃখ প্রকাশ ও জবাবদিহিতা
রাকিবের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে এমপি আব্দুল হান্নান মাসউদ তার ভেরিফাইড পেজে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি এই ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন।
- অগোচরে থাকা: এমপি জানান, বিষয়টি দীর্ঘদিন তার অগোচরে ছিল। গত সপ্তাহে এক সংবাদকর্মীর মাধ্যমে তিনি প্রথম বিস্তারিত জানতে পারেন।
- ব্যস্ততা ও ভুলে যাওয়া: তিনি জানান, নোয়াখালীতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে এবং পরবর্তীতে বিষয়টি মাথায় না থাকায় তিনি হাসপাতালে যেতে পারেননি। ওই কর্মীকে মনে করিয়ে দিতে বললেও আর মনে করিয়ে দেওয়া হয়নি।
- লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী: তিনি লিখেছেন, "যথাসময়ে ওনার পাশে দাঁড়াতে না পারায় আমি সত্যিই লজ্জিত। যেকোনো ভুলের জবাবদিহিতা করতে আমরা প্রস্তুত।"
বর্তমান পরিস্থিতি
রাকিবের মৃত্যুতে তার ১১ বছর বয়সী বড় মেয়েসহ চার সন্তান এবং পরিবার এখন দিশেহারা। এমপি হান্নান মাসউদ জানিয়েছেন, তিনি প্রতিদিন অসংখ্য রোগীর চিকিৎসায় সহায়তা করেন, কিন্তু রাকিবের বিষয়টি ভুলবশত এড়িয়ে যাওয়ায় তিনি অত্যন্ত মর্মাহত। স্থানীয়রা এখন মৃত রাকিবের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এমপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মানবিক আবেদন: ক্ষমতার চেয়ারে বসা জনপ্রতিনিধিদের সাধারণ কর্মীদের প্রতি আরও সংবেদনশীল হওয়ার দাবি তুলেছেন নেটিজেনরা।
প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী | প্রকাশ: ২০ এপ্রিল, ২০২৬ তথ্যসূত্র: স্থানীয় সূত্র ও জনপ্রতিনিধির অফিশিয়াল বক্তব্য
