
দেশের দ্রুত সম্প্রসারণশীল ডিজিটাল অর্থনীতির অংশ হিসেবে অনলাইন গেমিং খাতকে কর ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনলাইন গেমিং কার্যক্রমকে আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে খাতটির জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোবাইল ব্যাংকিং, ব্যাংক কার্ড এবং অ্যাপ স্টোরভিত্তিক গেমিং লেনদেনের ওপর ভ্যাট ও প্রযোজ্য কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় কর কর্তনের ব্যবস্থাও চালুর আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অনলাইন গেমিং শিল্প ইতোমধ্যে কয়েক হাজার কোটি টাকার বাজারে পরিণত হয়েছে। তবে বিপুল পরিমাণ লেনদেন এখনো আনুষ্ঠানিক কর ব্যবস্থার বাইরে থাকায় সম্ভাব্য রাজস্ব আহরণ সীমিত রয়েছে। নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে খাতটি নিয়ন্ত্রিত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক নেটিজেন মনে করছেন, সরকারের এই পদক্ষেপ দেশের ইস্পোর্টস খাতকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের মতে, গেমিং শিল্পকে নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক খাত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলে ইস্পোর্টস সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম, টুর্নামেন্ট আয়োজন, স্পনসরশিপ এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সুসংগঠিত হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুষম ও বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা গ্রহণ করা হলে অনলাইন গেমিং ও ইস্পোর্টস শিল্প দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডিজিটাল অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।